1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

অটোস্ট্যান্ডে ইভটিজিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীরা

শামীম আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি, নেত্রকোনা।
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৪১৬ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় নারী শিক্ষার প্রসারে গড়ে ওঠা একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়টির দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড থাকার কারণে বখাটেদের হাতে প্রতিনিয়তই ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। তারা মনে নানা শঙ্কা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নীরবে নিবৃত্তেই চলছে ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা।

জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৮৩ সালে নেত্রকোনা কেন্দুয়া সড়কের পাশে উপজেলা সদরে স্থাপিত হয় সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার মান উন্নয়নে পাঠদানের কার্যক্রম ভালো থাকায় দিন দিনই বিদ্যালয়টিতে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীর সংখ্যা এক হাজার ৩৪৭ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ১৮ জন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বিদ্যালয়টিতে একাডেমিক নতুন কোনো ভবন হয়নি। তা ছাড়া শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব না থাকায় ছাত্রীরা এ ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্যোগে পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হচ্ছেন। অথচ, উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়েই শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে। কিন্তু সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সিফটিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় ছাত্রীদের গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এবং ডানে বামে দুই পাশে সিএনজি অটোস্ট্যান্ড রয়েছে। এই সিএনজি অটো স্ট্যান্ডের যানবাহনে বসে বখাটে যুবকরা অনেক সময় ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণ করে থাকে। তা ছাড়া নানা কায়দায় ছাত্রীদের ইভটিজিং করে থাকে।

সোমবার(২০ নভেম্বর) উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙালি এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে সিএনজি অটোস্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে ছাত্রীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তোলেন। বখাটেদের কিছু তারা নিজেরদের যাত্রী বলে দাবি করে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রীরা বলেন, বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করাই কঠিন হয়ে পরেছে। তারাও বিদ্যালয়ে নিরাপদে আসা যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোস্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটো চালকের কাছে যাত্রীবেশী বখাটেদের ইভটিজিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সামনে এরকম কেউ করতে পারে না। তা ছাড়া যদি স্ট্যান্ড অন্য জায়গায় দেওয়া হয় আমরা সেখানেই চলে যাব।

কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃএনামুল হক বলেন, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সিএনজি অটো স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুলের দুই পাশে কোনো সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়াতে পারবে না এবং কোনো যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না।

উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) কাবেরী জালাল বলেন, ছাত্রীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে। ছাত্রীদের নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সমস্যা সমাধানে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com