1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদে নৌ-যাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোংলায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ টহল নাটোরের সিংড়ায় পথচারী ও শ্রমজীবীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ‎খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানে কুমারখালীতে বিশেষ ঈদ উপহার বিতরণ পিরোজপুরে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে প্রেস ব্রিফিং হরিপুরে ইউএনও’র কক্ষে নথিপত্র ছিনতাই উপজেলা প্রশাসনের হৃৎপিণ্ডে আঘাত জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও । পাইকগাছায় জ্বালানী তেলের তীব্র সংকট: ব্লাকে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পশুর নদীসহ সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর জীবন্ত সত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে-প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান : বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যক্রমমের অংশ হিসেবে বাগীশিক পদুয়া ইউনিয়ন সংসদ এর বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। নগরকান্দায় নববধূর গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা, স্বামী-শ্বশুর পরিবার পলাতক!

অবশেষে কেন্দুয়ার সেই শিক্ষা কর্মকর্তাকে সিলেটের নবীগঞ্জে বদলি

আনিসুল হক সুমন 
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪
  • ৪৯১ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে কেন্দুয়া উপজেলায় কর্মরত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম লিপিকে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে বদলি করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ে ৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে স্বাক্ষরিত পত্রের অনুমতির প্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম লিপিকে সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক প্রশাসন-২ এ,এস,এম সিরাজুদ্দোহা স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রশাসনিক কারণে বদলির এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চলতি বছরের গত ২৩ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ময়মনসিংহ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন কেন্দুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জামিরুল হক সহ অন্যান্য শিক্ষকরা। তাদের দাবী সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম লিপি তার ক্লাস্টারের শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ফাইল নিয়ে চেকে স্বাক্ষর আনতে গেলে টাকা ছাড়া তিনি চেকে স্বাক্ষর দেন না। বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে ভালভাবে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করতে হয় এবং আসার সময় টিফিন ক্যারিয়ার ভরে খাবার দিয়ে দিতে হয়।
এর আগে গত বছরের জুন মাসে শিক্ষক সমাজের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন নেত্রকোনার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের নির্দেশে মদন ও পূর্বধলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে সরেজমিনে একটি তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এই তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষা অধিপ্তরে মহা পরিচালক বরাবর জমা দেওয়া ছিল।

তাছলিমা বেগম লিপির বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন নেত্রকোনা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বর্তমান সহকারী পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ তাহমিনা খাতুন বলেন, তদন্তে অভিযোগে সত্যতা ছিল। যে জন্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভাগীয় উপ পরিচালক মোঃ আলী রেজার ভাষ্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম লিপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা মিলিছে। তাকে অন্যত্র বদলির জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর প্রতিবেদন জমা দেওয়া ছিল।

কেন্দুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম লিপির বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ ছিল। তিনি শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেছেন এমনটি দাবি করেছেন শিক্ষক সমাজ। তাছাড়া শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরাও তার আচরণগত দিক দিয়ে অনেক অসন্তুষ্ট ছিলেন। গত ১৩ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশ মোতাবেক তাছলিমা বেগম লিপি কেন্দুয়া কর্মস্থল ছেড়ে চলে গেছেন।এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম লিপির সাথে যোগাযোগ করা হলে সোমবার তিনি বলেন, আমাকে প্রশাসনিক কারণে বদলি করা হয়েছে। আমি কেন্দুয়া থেকে চলে এসেছি। আগামী সপ্তাহে আমি সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় কর্মে যোগদান করব।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com