1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

কৃষকের স্বপ্ন যেন বৃষ্টির পানিতে ডুবে শেষ

মোঃ আনিস আলী
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০২৪
  • ৭৭৬ বার পড়া হয়েছে

নাটোর জেলা সিংড়া উপজেলার ছোট্ট একটি বিল।বিলটি হাজির বিল নামে খুবই পরিচিত।ছোট হওয়া সত্বেও বিলটিতে বছরে দুটি ফসল ফলতে দেখা যায়। বিলে চতুর ধারের কৃষকেরা ফসল ফলিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। হাজারো কৃষকের জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য বিলটি গুরুত্ব সর্বাধিক। কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে তারও গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।

এক সময় যেখানে চাষাবাদ করে হাজারো কৃষকের মুখে হাসি দেখা যেত। এখন সেই হাসিটাই হাসতে ভুলে গেছে কৃষকেরা। একটু বৃষ্টির পানিতেই ভরে যায় বিলটি। টানা তিনদিনের বৃষ্টির ফলে, অধিকাংশ কৃষকের জমির ফসল ডুবে গেছে। ডুবে গেছে কৃষকের স্বপ্ন ও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম।

ফসলের বীজ বপনের পর থেকেই কৃষকের মুখে বিপর্যয় লক্ষ্য করা যায়। এই যেন বৃষ্টির পানিতেই সবকিছু ডুবে শেষ।তবে এর আগে তেমন কোন খারাপ পরিস্থিতি ছিল না। সময়মতো বিলে পানি আসত এবং সময় মতোই তা নেমে যেত। এতে কৃষকেরা যথাসময়ে ফসল ফলিয়ে ঘরে তুলতে পারতো। তবে এখন তার উল্টো কিছুই লক্ষ্য করা যায়।

উপরের দৃশ্যপট দুটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় বিলটিতে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। যার ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে আছে। এতে একটু বৃষ্টির পানির ফলেই নেমে আসে বন্যা। যার ফলে কৃষকেরা সঠিক সময়ে ফসল ফলাতে পারছে না। এতে বিপর্যয় নেমে আসছে কৃষকদের জীবনে। তাদের পরিশ্রম যেন বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে শেষ।

যদি সুপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হয়। তাহলে বছরের পর বছর সঠিকভাবে কৃষকেরা ফসল ফলাতে পারবে না।এতে নেমে আসবে কৃষকদের জীবনে বিপর্যয়। তার ধাক্কা গিয়ে লাগবে কৃষকদের জীবিকা নির্বাহে এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com