1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

কৃষি জমি নষ্ট করে পরিণত করা হচ্ছে পুকুরে

মো:আমিনুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৫২১ বার পড়া হয়েছে
কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’- এমন সরকারি নীতিমালা থাকলেও ফসলি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে পুকুরে। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মহলকে নিয়ন্ত্রণ করে,জমির মালিককে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে কিনে নিচ্ছে মাটি আর পুকুরে পরিণত হচ্ছ কৃষি জমি।মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নং নবী পুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের আবু তাহের সরকার তার ৮০ শতাংশ কৃষি জমিতে স্ক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খনন করছে আর সেই মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়।এমন খবর শুনে ১৮ ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার  সকাল ১০ঘটিকায় টায় সরজমিনে দেখা যায় ৮০ শতাংশ ফসলি আবাদি জমিতে ৫ দিন যাবৎ স্ক্যাভেটর দিয়ে মাটি খনন চলছে।এর ফলে ধ্বংশের মুখে চারপাশের আরও ৪ থেকে ৫ শত শতাংশ কৃষি জমি।
সরকারের অনুমিত ছাড়াই  নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন এবং বাখরনগর গ্রামের মুশাররফ নামে এক অসাধু মাটি ব্যবসায়ী  সেই মাটি বিক্রি করছে মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন ইটের ভাটায়।
অবারিত সবুজ হলুদের মাঠে ইরি ব্লক এবং সরিষা খেত, যেখানে দৈনন্দিন কাজ করে আসছে এলাকার কৃষক।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন আমাদের গ্রামে ৫/৭ জনের একটা মাটি ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট আছে তারা বিভিন্ন অসহায় জমির মালিকদের মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে এই কাজটি করে,এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ব্যবসায়ী হচ্ছে মুশাররফ,তার অনেক ক্ষমতা সে নাকি সব-মহলকে ম্যানেজ করে মাটির ব্যবসা করে।
প্রতি দিন বড় বড় ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি আনা নেওয়ার কারণে ইটের সলিং এর একমাত্র সড়কও হয়েছে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু সবাই নির্বিকার কেউ মুখ খুলছে না।মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পার্মিশন ব্যতিতো কৃষি জমি কাটা যাবে না, শ্রেণিপরিবর্তন করা যাবে না। এটা ডিসি মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে করতে হবে।
কৃষি জমির আকার পরিবর্তন করা যাবে না, মাটি কাটার কোন সুযোগই নেই, আমাদের নলেজে আসলে আমরা বন্ধ করে দিবো এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ আর এভাবে দিনের পর দিন কৃষি জমি নষ্ট  হলে কৃষি জমির পরিমাণ যেমন কমবে তেমনি  খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিবে, কৃষক না খেয়ে মরবে। কৃষক বাচলে দেশ বাচবে তাই সবার একটি প্রত্যশা শুধু আইন করেই না, আইনের সঠিক প্রয়োগে  বন্ধ করতে হবে কৃষি জমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com