গ্রামের মানুষ কাম করি ভাত খাই, এর আগে কোর্টে আই নাই
———
পরশুকা সন্ধ্যাকালে চড়ছি লঞ্চে, কালকে (মঙ্গলবার) দিনে দশটায় এসে নামছি। এক আত্মীয়ের বাসায় যাইয়া দুগা ভাত খাইছি। রাইতখান কোনো রকম আছিলাম, সকালে (বুধবার) এহানে আইছি। দুধের ব্যবসা করি। গ্রামত কিছু দুধ উঠাইয়া নিয়ে বাজারে বেচি। মামলা হইছে ভোটের আগে। মাঝে মাঝে ঘরে হুইতাম না, মাইনসে ভয় লাগাই তো। অন্যান্য ঘরে গিয়া হুইতাম।’ এসব কথা বলেছেন ভোলার চর সামাইয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের, যিনি আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে এসেছিলেন।
আজ বুধবার দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে পঞ্চাশোর্ধ্ব আবু তাহেরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাজিরা দিমু। মাইনসে তো কয় ধরি লই যাইব। তয় সবাই আইলে আইতে হইব না? মামলার মধ্যে জড়াইছে। গ্রামের মানুষ কাম করি, ভাত খাই। আর কোনো মামলা নেই। এর আগে কোর্টে আই নাই।’ ভোলার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এসেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর জামিন আবেদনের শুনানি আজ হয়নি বলে সন্ধ্যায় জানান আবু তাহের।
দুপুরে বর্ধিত ভবনের সামনের প্রাঙ্গণে শুধু আবু তাহের নয়, তাঁর মতো অনেকেই আগাম জামিন নিতে এসেছেন বলে জানান। সেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। জামিনপ্রত্যাশী এসব মানুষকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দাঁড়িয়ে, বসে থাকতে ও খাবার খেতে দেখা যায়। আবার দল বেঁধে সেলফি তুলেছেন কেউ কেউ।
আদালত প্রাঙ্গণে কথা হয় নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে আসা মোহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। গাড়ি পোড়ানোর মামলা, কোথায় গাড়ি পোড়ানো হয়েছে, তা–ও জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এক চোখে কিছু দেখি, আরেক চোখে একেবারেই দেখি না। আমি রাজনীতি করি না। মিথ্যা মামলায় জড়িত করায় জামিন নিতে হাইকোর্টে এসেছি।