1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় চরাঞ্চলে জীবিকায় স্থবিরতা

সাজেদুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলসহ উপজেলায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। দিনের বেশির ভাগ সময় দেখা মিলছে না সূর্যের।
সন্ধ্যা হতেই কুয়াশার চাদরে ছেয়ে যায় উপজেলাসহ পুরো চরাঞ্চল। ঘন কুয়াশার কারণে নদী পথে চলাচল করতে পারছে না নৌকা। ফলে চরাঞ্চলের যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। উপজেলাটি যমুনা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এখানে ঘন কুয়াশা ও শৈত প্রবাহ অনেক বেশি। ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের প্রকোপ বেশি থাকায় এখানকার মানুষের জীবন জীবিকায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। তীব্র শীতের কারণে কাজের সন্ধানে যেতে পাড়ছে না খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। শীতের তীব্রতায় খড়-কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।

এখন পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার শীত বস্ত্র ও সহায়তা পায়নি শীতার্ত পরিবারগুলো। গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায়, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষ। স্থানীয় জন প্রতিনিধি, প্রশাসন ও সরকারের কাছে শীত নিবারণের জন্য শীত বস্ত্র এবং সহযোগীতার দাবি জানিয়েছেন অসহায় পরিবারের লোকজন ।

এ বিষয়ে উপজেলার গাবসারা চরাঞ্চলের ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম শাপলা বলেন, আমার ইউনিয়নটি চরাঞ্চল বেষ্টিত একটি ইউনিয়ন। এখানকার ৯০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রচন্ড শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের কারণে ফসলের যমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি শীতের কারণে কাজ করতে না পারায় কষ্টে দিনযাপন করছে অনেকে। উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র পেলে সেগুলো চরাঞ্চলের অসহায়, দুস্থ ও শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোছা. নার্গিস বেগম বলেন, আমাদের উপজেলাটি যমুনা চরাঞ্চল বেষ্টিত একটি উপজেলা। উপজেলায় যমুনা নদীর তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়ন সহ গাবসারা ইউনিয়নটি সম্পূর্ণ যমুনা চরাঞ্চলে অবস্থিত। আর যমুনা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এথানে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। আমরা অল্পকিছু কম্বল পেয়েছিলাম সেগুলো ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দুঃস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com