1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

পারিবারিক বিরোধ সমাধানে গিয়ে আসামী,প্রতিবাদে মানববন্ধন

ওমর ফারুক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২০৬ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে একটি পারিবারিক ঝগড়া থামাতে গিয়ে ওহিদুজ্জামান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর নামে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছে এক গৃহবধূ। লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে দায়েরকৃত মামলায় ওই গৃবধূর স্বামী মো. রাকিব হোসেনকে (৩০) আসামী করা হয়৷ স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক না পেয়ে ব্যবসায়ী ওহিদুজ্জামানকে দিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে গৃহবধূর ওই ঘটনাকে ‘সাজানো’ বলছে এলাকাবাসী। প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরভূতা গ্রামে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তারা প্রকৃত রহস্য বের করার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে হোটেল কর্মচারী মো. রাকিব হোসেনের সাথে বিয়ে হয় পাশ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার মধ্য চরমার্টিন গ্রামের মো. হাছানের মেয়ে নাছিমা আক্তারের। তাদের ঘরে সাত বছরের এক মেয়ে ও সাড়ে তিন বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ছিল তাদের মধ্যে। এ নিয়ে গৃহবধূ নাছিমার সাথে তার শাশুড়ি, ননদ ও স্বামীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো।
২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ওই গৃহবধূ। এতে অভিযোগ আনেন, তার স্বামী রাকিব যৌতুক লোভী এবং জুয়াড়ী। জুড়া খেলে রাকিব ধারদেনা হয়ে পড়ে। সেগুলো পরিশোধ করতে স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিলে দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে ওহিদুজ্জামান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার ঘরে ঢুকিয়ে দেয় রাকিব।
রাকিব ঘরের বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু ঘরের ভেতের ওহিদুজ্জামান রাকিবের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং মারধর করে নির্যাতন চালায়৷ এসময় তার দুই সন্তানকেও মারধর করেছে।
এরআগে ওই গৃহবধূ স্বামী রাকিব ও প্রতিবেশি ওহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ দিয়েছেন সদর থানায়৷
তবে স্থানীয় লোকজন গৃহবধূর করা ওই অভিযোগ পুরোপুরি সাজানো এবং ষড়যন্ত্র দাবি করে জানায়, ওইদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তাদের ঘরের পারিবারিকভাবে ঝামেলা হয়েছে। গৃহবধূর সাথে তার শাশুড়ি খুরশিদা বেগমের সাথে মারামারি হয়েছে। পরদিন সাকালেও তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে ঝগড়া হয়। এসময় তারা দুইজন আহত হয়েছে। আর পরদিন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে ব্যবসায়ী ওহিদুজ্জামান ঘটনার মিমাংসা করতে যান৷ এ জন্যই ওই গৃহবধূ তার স্বামীসহ ওহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন৷
স্থানীয়রা আরও জানায়, ঘটনার সময় তার স্বামী রাকিব বাড়িতে ছিল না। সে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তার কর্মস্থলে ছিল। আর ওহিদুজ্জামান সামাজিক ব্যক্তি। তিনি এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না। পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। মানববন্ধনকারীরা ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় দুটি মসজিদের ইমাম মো. হেলাল ও আলামিন বলেন, ওহিদুজ্জামান পারিবারিক ঝামেলা মিমাংসা করার জন্য ওই বাড়িতে গিয়েছে বলে শুনেছি। এখন তিনি ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী হয়েছে। উনি এ ধরনের লোক না। মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে।
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আহছান উল্যা বলেন, রাকিবের স্ত্রী রাকিব ও ওহিদুজ্জামানকে আসামী করে প্রথমে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওহিদুজ্জামানকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। রাকিব নিজেই থানায় যায়। পুলিশ প্রাথামিকভাবে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা না পেয়ে তাদের দুইজনকে ছেড়ে দেয়। পারিবারিক বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য থানা থেকে জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হয়৷ কিন্তু এরপরেই রাকিরের স্ত্রী আদালতে গিয়ে একই অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগের সাথে বাস্তবতার মিল নেই বলে দাবি তার।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com