1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

পূর্ব চরউমেদ আহম্মাদিয়া দাখিল মাদরাসার একই ক্লাস রুমে একাধিক শ্রেণির পাঠদান, চরম দুর্ভোগ

নোমান ফরাজী
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯৭৫ সালে স্থাপিত হয় ‘পূর্ব চরউমেদ আহম্মাদিয়া দাখিল মাদরাসা’। শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শুরুতে টিনশেড ভবনে কার্যক্রম চললেও ১৯৯৭ সালে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির পাঠদান এবং অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে নির্মাণের এক দশকের মধ্যেই ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।জরাজীর্ণ পাকা ভবনের পাশেই একটি টিনশেড ভবনে ইবতেদায়ি শাখার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান চালানো হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভবনগুলোর বেহাল দশার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জরাজীর্ণ ভবনে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ায় ছাদের ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া হলেও তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি।গত সাত মাস আগে ঘূর্ণিঝড়ে টিনশেড ভবনটি বিধ্বস্ত হলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। বর্তমানে জরাজীর্ণ পাকা ভবনের একটি কক্ষে ইবতেদায়ির পাঁচটি শ্রেণির এবং অন্য দুটি কক্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থী এক কক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।মাদরাসার এক শিক্ষক জানান, “টিনশেড ভবনটি বিধ্বস্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে একটি ক্লাস রুমে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পড়াতে হচ্ছে। এতে তারা ঠিকমতো বুঝতে পারছে না। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমরা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থী এক কক্ষে বসে পড়ায় পড়াশোনার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দ্রুত একটি নতুন ভবন চাই, যেখানে সুষ্ঠু পরিবেশে পড়ালেখা করতে পারবো।মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. অলি উল্যাহ জানান, “নতুন ভবনের জন্য বহু আগে আবেদন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।”এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার মদন মোহন মন্ডল বলেন, “উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পূর্ব চরউমেদ আহম্মাদিয়া মাদরাসার ভবনটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন করে নির্মাণের জন্য আবারও তালিকা পাঠানো হবে।”স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মিত হলে এই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নত হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com