1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

বনানী-গুলশানে নির্ধারিত রিকশাভাড়া মানছে না কেউ

স্বাধীন সরকার
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১০৬৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার বনানী-গুলশান-বারিধারা-নিকেতন এলাকায় অত্যাধিক রিকশা ভাড়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন যাত্রীরা। দূরত্ব অনুযায়ী রিকশাভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও মানে না কেউ। বনানী-গুলশানে চলাচলে অনুমোদিত বিশেষ নম্বর প্লেট দেওয়া প্রতিটি হলুদ রঙের রিকশায় সোসাইটির নির্ধারণ করে দেওয়া ভাড়ার তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে রিকশাচালকেরা শুরু থেকেই ওই তালিকা মানছেন না। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে তাঁরা যাত্রী পরিবহনে অপারগতা জানাচ্ছেন। এ অবস্থায় অনেকটা বাধ্য হয়েই যাত্রীরা চালকের দাবিকৃত ভাড়ায় চলাচল করছেন। এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব এলাকায় সোসাইটিগুলো মিলে বিশেষ বাসসেবা চালুর পাশাপাশি হলুদ রঙের বিশেষ রিকশা নামানো হয়েছিল। উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সোসাইটিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব বিশেষ রিকশা ছাড়া অন্য রিকশা এলাকায় প্রবেশ করবে না। হলুদ রঙের রিকশা চলাচলের শুরু থেকেই যাত্রীদের মধ্যে ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব এলাকায় রিকশাভাড়া বেড়ে যায় তিনগুণ। যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। দেখার যেন কেউ নেই। সোসাইটিতে অভিযোগ করেও মিলছে না কোনো প্রতিকার।
বনানীর কড়াইল বিটিসিএল কলোনির বাসিন্দা হুমায়ূন অভিযোগ করেন, আগে কড়াইল থেকে যেখানে রিকশায় আমতলি যেতাম ৪০ টাকায়। এখন ৫ নম্বর গেট পর্যন্ত, মানে তার অর্ধেকের কম রাস্তা ৪০ টাকায় যাওয়া লাগছে।
বনানী ৪নং রোডের বাসিন্দা জামান হোসেন বলেন, এখানে তো রিকশায় উঠলে আর নামলেই সর্বনিম্ন ভাড়া ৩০ টাকা দেওয়া লাগে। অত্র এলাকায় রিকশাভাড়া বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরকে দায়ী করেন। তার দেওয়া তথ্য মতে, বনানীতে চলাচলের জন্য হলুদ রঙের রিকশার নম্বর পেতে নাকি কাউন্সিলর অফিসে দুই-তিন লক্ষ টাকা দেওয়া লাগে। এমন অভিযোগ অবশ্য বেশ কয়েকজন রিকশা মালিকও করেছেন।
ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে রিকশাচালক মো. জমির বলেন, ‘সোসাইটির পক্ষ থেকে রিকশার মালিকের জমা ঠিক করা ছিল ৩০০ টাকা। কিন্তু মালিক নেন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এ জন্য যে ভাড়ার তালিকা দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী গেলে আর চলা যাবে না। আমাদের কাছে কোনো টাকাই আসবে না। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি। এ জন্য বেশি ভাড়া নিতে হয়।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় নতুন একটি রিকশা কিনতে লাগে বড়জোর ২৫ হাজার টাকা। পুরোনো রিকশার দাম আরও কম, ১৫ হাজারেই পাওয়া যায়। তবে কেউ যদি রিকশা কিনে গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারায় চালাতে চান, তাহলে ব্যয় করতে হবে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। না, গুলশানের রিকশায় বিশেষ কিছু নেই। এতে যন্ত্র লাগানো নেই যে চালকের কষ্ট কম হবে। এর আসন, কাঠামো অন্য এলাকার রিকশার মতোই। তবে এসব এলাকায় রিকশার বিশেষ নিবন্ধন পেতে মালিকের খরচ করতে হয় দুই-তিন লাখ টাকা।
শুধু এই পরিমাণ টাকা দিতে পারলে গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতনের বাসিন্দাদের সংগঠন বা সোসাইটি সিটি করপোরেশন নিবন্ধন বা লাইসেন্স (ব্লু-বুক) দেয়, এসব রিকশাকে তাদের নিজস্ব নিবন্ধনের আওতায় আনে। রিকশাগুলোকে একটি নম্বরপ্লেট দেওয়া হয়, যা রিকশার সামনে টাঙিয়ে রাখতে হয়। এ ছাড়া রিকশাচালকদের পরিচয়পত্র রয়েছে এবং তাঁদের বিশেষ কটি পরতে হয়। নিবন্ধন ছাড়া রিকশা এসব এলাকায় চলতে পারে না। নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যাও সীমিত। সমস্যা হলো রিকশার দাম এত বেশি হওয়ার মাশুল দিতে হয় সাধারণ রিকশাচালক ও যাত্রীদের।
রিকশা নামানো এবং এর ভাড়ার বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব সোসাইটিগুলোর। কিন্তু তারা এখন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না, বরং দায়িত্বে এড়ানো চেষ্টা করছে। বরং এখন বিশেষ রিকশা ছাড়া অন্য রিকশাও চলাচল করলে তারা দেখেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কড়াইলের একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক জানান, পাঁচ বছর আগে পাঁচটি রিকশা বানাতে তার খরচ হয়েছিল মোট ১ লাখ টাকা। কিন্তু সেই পাঁচটি রিকশা বনানীতে চলাচলের জন্য বিশেষ নম্বর পেতে কাউন্সিলরের একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন আট লাখ টাকা। এত টাকা খরচ করার কারনেই তিনি জমা বেশি নেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, বিশেষ নম্বর প্লেটের একটি রিকশা পাঁচ লাখ টাকায়ও বিক্রি হয়। এছাড়া রিকশা প্রতি প্রতি মাসে পনেরো শো টাকা চাঁদা দেওয়া লাগে।
গুলশান-বনানীতে নিবন্ধিত রিকশা মালিকদের সমিতিও আছে। এই সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান ফরাজী বলেন, নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা সীমিত। চাহিদাও বেশি। এসব কারণেই দাম বেশি। তিনি আরও বলেন, দাম পাঁচ লাখ হবে না, বড়জোর দুই-আড়াই লাখ টাকায় একটি রিকশা বিক্রি হয়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com