1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

বাক-প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে, পথের ধারে খড়কুটোর ঘরে

এম এ সাকিব খন্দকার
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৬৩ বার পড়া হয়েছে
পথের ধারে সামান্য জায়গায় পুরনো কয়টা টিন আর খড়কুটোর তৈরী ছোট্ট ঘরে হামাগোরে বুড়া-বুড়ির শীতের রাত কাটে। ঘরে শোয়ার জন্য কোনো খাট কিংবা চৌকি নাই, নাই কোনো বিদ্যুতের আলো। মেঝেতে খড়ের বিছানা বানিয়ে তাতেই কনকনে শীতে এই ঠাণ্ডার মধ্যে রাত্রী যাপন করি তবুও  খোঁজ নেই কারোও। দিনের বেলায় এলাকার বাড়ী বাড়ী গিয়ে চায়েচিন্তে আনে খাই। এখন শীত বেশি তাই বারে যাওয়াও কষ্ট হয়। শীতে খুব কষ্টে রাত পার করোচি বাহে। একনা কম্বল পাইলে আরাম হত। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতা ও স্ত্রী প্রতিবন্ধী ভাতা পাই তাই সরকারের অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়না। তবুও আল্লায় ভালো রাখিছে। এভাবেই নিজের কথা বলছিলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হরেন্দা বাজার এলাকায় পথের ধারে খড়কুটোর ঘরে ঠাই হওয়া ছানাউল্লাহ (৭০) নামের বৃদ্ধ দম্পত্তি।
উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় সৃষ্ট হাড়কাঁপানো কনকনে তীব্র শীতে যখন কাবু জনজীবন। তখন দুই সপ্তাহেরও বেশিদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ যেন, মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষ ও প্রাণীকূলে। দিনে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও রাতে প্রকৃতির কাছে হার মানছে মানুষ। রাতে শীত থেকে বাঁচতে সবাই যখন শরীরে মোটা কাপড়, লেপ, কম্বল পরিধাণ করে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে, ঠিক তখন খোলা আকাশের নিচে পথের ধারে খড়কুটোর তৈরী ঘরে খড়ের বিছানার উপর সামান্য কিছু কাপড় শরীরে জড়িয়ে রাত্রী যাপন করেছেন বাক-প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোঃ ছানাউল্লাহ শেখ (৭০) নামের এক বৃদ্ধ দম্পত্তি।
ছানাউল্লাহ দম্পতি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর গাইবান্ধা জেলা থেকে পাঁচবিবির মহিপুর এলাকায় এসে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নেই। এরপর মানুষের বাড়ী বাড়ী কাজ করে সেখানেই খাসের জায়গায় ঘর বানিয়ে থাকতাম। স্ত্রী সন্তানসহ সেখানেই কেটে যায় বহুকাল। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছেলেকে বাড়ী ছেড়ে দিয়ে ভিটা-মাটি ছেড়ে চলে আসেন ছানাউল্লাহ। এরপর যাযাবর জীবনে প্রায় সাত বছর আগে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের এক বাক-প্রতিবন্ধী মহিলাকে বিয়ে করে সড়কের ধারে খড়কুটোর তৈরী ছোট্ট ঘরে সংসার বাঁধেন এই বৃদ্ধ দম্পত্তি। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে সংসার চলছে তাদের। সরকারের একটি আশ্রয়ণের ঘর চান তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচবিবি-কামদিয়া সড়কের হরেন্দা বাজারের পুর্ব দিকে রাস্তার পাশের সামান্য কিছু জায়গায় পুরনো কিছু টিন ও খড়কুটোর তৈরী ছোট্ট ঘরে কষ্টে জীবন যাপন করেছেন ছানাউল্লাহ ও তাঁর বাক-প্রতিবন্ধী স্ত্রী। ঘরে শোয়ার জন্য কোনো খাট কিংবা চৌকি নেই, নেই কোনো বিদ্যুতের আলো। মেঝেতে খড়ের বিছানা বানিয়ে তার উপর কিছু কাপড় দিয়ে বিছানা বানিয়ে এই কনকনে শীতে রাত্রী যাপন করছেন তবুও  খোঁজ নেই কারোও। ঘরের ভিতরে এলোমেলো অবস্থা। বাড়ীতে একটা টিউবওয়েল বসানো সেটাও নাকি মানুষের ধার করা ইরির সিজন আসলে নিয়ে যাবে। একারনে এই বৃদ্ধ দম্পত্তির সরকারের কাছে আবেদন তাকে যেন একটি আশ্রয়ণের ঘর দেওয়া হয়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com