1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

বাগাতিপাড়ায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা

মোঃ সাজেদুর রহমান
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৮৬ বার পড়া হয়েছে
নাটারের বাগাতিপাড়ায় গলায় উড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নিয়ে ২০ বছর বয়সী শারমিন বেগম নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের বাটিকামারী মধ্যপাড়া গ্রামে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। শারমীন বেগম ওই গ্রামের ভ্যান চালক জিয়াউর রহমান জিয়ার স্ত্রী।
থানা পুলিশ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, শারমিন সকাল থেকে বেশ ভালোভাবেই সংসারের সকল কাজ করেছে। বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ করে সে তার নিজের শয়ন কক্ষে গিয়ে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এ সময় বাড়ির অন্যরা মনে করেন সে আসরের নামাজ আদায় করার জন্য ঘরে গিয়েছে। বেশকিছু সময় পরে তাকে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করে বাড়ির লোকজন। কিন্তু তার কোন সারা শব্দ না পেয়ে বাড়ির বাহিরে গিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকে গলায় উড়না পেঁচানো অবস্থায় ঘরের তীরের সাথে ঝুলতে দেখে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। পরেস্থানীয়রা সেই চিৎকার শুনে ছুটে এসে ওই ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামায়। পরে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসককে খবর দিলে সেই চিকিৎসক শারমিন কে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদ্রহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শারমিন এর আগে প্রায় ৬ মাস আগেও গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তারপর থেকে সে ভালোই ছিলো। কিন্তু হঠাৎ কেন সে আত্মহত্যা করলো সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেনা তারা।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নান্নু খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে তিনিসহ অন্যান্য পুলিশ অফিসার নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে লাশের প্রাথমিক সুরাৎহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এদিন রাতে মরদেহটি থানায় নিয়ে আসা হয়। মরদেহটির ময়না তদন্তের জন্য বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শারমিনের আত্মহত্যার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলেও জানান ওসি নান্নু খান।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com