1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

বাড়িতে কসাই খানা বানিয়ে চোরাই গরুর মাংস বিক্রি

কাজী সামছুজ্জামান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২২৩ বার পড়া হয়েছে
গরু চুরি করে জবাই, তারপর মাংস সাপ্লাই দেয়াই ছিল তার পেশা। নিজের ঘরের ভেতর বানিয়েছেন মিনি কসাই খানা। রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার জন্য আছে ড্রেনেজ সিস্টেমও। ঘরের ভিতরেই গোস্ত মজুদের জন্য রয়েছে ডীপ-ফ্রিজ। গরু চুরি ও বিভিন্ন কসাইদের কাছে গোস্ত সাপ্লাই দিতেন সকলের অগোচরে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ওয়াদুদ মিয়ার। অবশেষে তাকে আটক করেছে পুলিশ। ধরা পরার আগ পর্যন্ত অন্তত শতাধিক গরু চুরির রেকর্ড করেছেন তিনি। ওয়াদুদ সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মজির মিয়ার ছেলে।
মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ওয়াদুদ। বুধবার ৭ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শীত মৌসুমে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেন। তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। অধিকাংশ গরু চুরির রেকর্ড পুলিশের কাছে না থাকলেও সাধারণ মানুষরা নিজের মতো করে খোঁজাখোঁজি ও মেম্বার চেয়ারম্যানদের জানিয়ে রাখতেন। গত ৪/৫ দিন আগে উপজেলার মুন্সিবাজারের করিমপুর চা বাগানের অনন্ত তেলির একটি বাছুর ছাড়া গাভী চুরি হয়। তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখোঁজি করছিলেন। এদিকে গত ২দিন আগে রাজনগরের চেলারচক এলাকার কয়েকজন শ্রমিক পার্শ্ববর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আনারস বাগানে কাজ করতে যান। তারা ওই বাগানে পা ও মুখ বাধা একটি গাভী দেখতে পেয়ে নিয়ে এসে উত্তরভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখেন। গাভীটির মালিক না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করা হয়।এদিকে খবর পেয়ে অনন্ত তেলি গিয়ে দেখেন গাভীটি তার। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে গাভীর বাছুর নিয়ে গেলে বাচ্চাটি দুধ খাওয়া শুরু করে। এতে তার মালিকানা নিশ্চিত হওয়া গেলেও চুর কে তা পাওয়া যাচ্ছিল না।
মুন্সিবাজারের করিমপুরের আওয়াল মিয়াসহ কয়েকজনেরও গরু চুরি হয়েছে অতিসম্প্রতি। তারা চুর খোঁজার জন্য ওই এলাকায় যান। গিয়ে দেখেন মির্জাপুরে ওয়াদুদ মিয়ার বাড়ির পাশে অর্ধশতরও বেশি গরুর মাথা ও হাড়গোড় দেখা যায়। এছাড়াও আনারস বাগানের বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাথা ও হাড় পড়ে রয়েছে। পরে তারা রাজনগর থানার পুলিশকে খবর দিলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শওকত মাসুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফেঞ্চুগঞ্জ থানার সহায়তায় মির্জাপুর গ্রামের মজির মিয়ার ছেলে ওয়াদুদ মিয়া (৩২) ও তার পাশের বাড়ির বোনের জামাই মাসুদ মিয়ার ছেলে কবির মিয়া (৫৫) কে মঙ্গলবার বিকালে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় তার ঘরের ফ্রিজে রাখা প্রায় ৫০ কেজি গোস্ত, চুরির কাজে  ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিক্স, বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার বাড়ির পাশ থেকে প্রায় ৫০টি গরুর মাথার কঙ্কাল পাওয়া যায়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com