1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার! লালমোহনে দুই ব্যবসায়ীর উপর হামলা ও টাকা ছিনতাইর অভিযোগ

ভূমিহীন জব্বারের দোকান ঘর দখল করে নিল জেবু চৌধুরী

মোঃ শাহজালাল
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে
জেলার পাথরঘাটা পৌর শহরে এক ভূমিহীন পরিবারের একটি দোকান ঘর দখল করে নিয়েছে জেবু চৌধুরী নামের বিএনপির স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেত্রী । ১০ আগস্ট’২৪ পাথরঘাটা শহরের পাল পট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আঃ জব্বার জেলা প্রশাসন ও পাথরঘাটা থানায়  লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর  পাথরঘাটা বড় বাজারের মনিহারী মালামালের ব্যবসায়ী আঃ জব্বারের পাকা দোকানঘর দখল করে তালা দেন উপজেলা বিএনপির মহিলা নেত্রী সাবেক কাউন্সিলর জেবু চৌধুরী। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল  লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন আব্দুল জব্বার। বিষয়টি স্থানীয়রা কয়েক দফা মীমাংসা করে দিলেও দোকানের তালা খুলে দেননি জেবু চৌধুরী।এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। কিন্তু থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত জেবু চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওই বিএনপি নেতার পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি আঃ জব্বারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আঃ জব্বার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পাথরঘাটা বড় বাজারের পালপট্টিতে অবস্থিত সরকারি জমিতে তার পিতার নামে পেরি পেরি বন্দোবস্ত রয়েছে। তার বাবার আমল থেকে উক্ত জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে মনিহরী ব্যবসা করে আসছেন। তিনি বলেন,১০ আগস্ট দোকানের সামনে এসে বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেত্রী জেবু চৌধুরী তার দলবল নিয়ে   তাকে দোকান থেকে বের করে দেন। এসময় সে  বের হতে না চাইলে তাকে গালাগাল ও মারপিট করা হয় । পরে  জেবু চৌধুরী তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং দোকানে  তালা মেরে দেন।এ ব্যাপারে সাবেক কমিশনার বিএনপি নেত্রী জেবু চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ দোকান ঘর তার নিজের।  তার বন্দোবস্তকৃত জমিতে জব্বার সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সবুর টুলুর পরিবারের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে থাকতেন । আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমাদের জায়গা প্রশাসনের সহায়তায় পুনরুদ্ধার করেছি।এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আঃ জব্বার বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি একজন ভূমিহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী । আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ পাথরঘাটা বাজারের ১নং ওয়ার্ডে  অবস্থিত আল-মদিনা ষ্টোর নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মনিহরী মালামাল এর ব্যবসা করিয়া আসিতেছি। যাহার হোল্ডিং নং ১৭৬। আমি উক্ত দোকান ঘর বিগত ৪০ বছর যাবৎ ভোগ দখল করিয়া আসিতেছি। উক্ত জমি খাশ খতিয়ানে থাকায় আমি পাথরঘাটা ভূমি অফিসে ডিসিআর পাওয়ার আবেদন করি। পেরিফেরি লিস্টে আমার বাবার নাম উল্লেখ আছে। উক্ত জমিতে আমি সরকারি ট্যাক্স প্রদান করি, আমার নামে বিদ্যুতের মিটারয় রয়েছে  ঘটনার দিন হতে মানবেতর জীবন যাপন করতেছি। আমার দোকান ছাড়া আর কোন আয়ের উৎস নাই। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com