1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

সরকারি ইজিপিপি কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন

শামীম আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের আশুজিয়া গ্রামে সরকারি ইজিপিপি (অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে) বাঁধা দিয়ে সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তার একটি অংশে কোদাল দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনগণ ভোগান্তির শিকার হওয়ায় এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজান বিরাজ করছে।

জানা যায় কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের আশুজিয়া গ্রামের (দাওরাট পাড়ায়) চলাচলের একটি রাস্তা সংস্থারের জন্য আশুজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় একটি কর্মসূচি কাজ শুরু করে। কিন্তু সরকারি ওই কর্মসূচিতে বাঁধা দিয়ে শ্রমিকদেরকে উঠিয়ে দিয়ে চলালের ওই রাস্তাটি কোদাল দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয় আশুজিয়া গ্রামের (বড়বাড়ি) মৃত আনফর আলীর ছেলে নওশের আলম বাবুল, রহিছ মিয়া ও হক মিয়া গংরা। গত ১৪ জানুয়ারি সকাল অনুমান ১১টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তায় মাটি কাটতে গেলে তাদেরকে রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয় নওশের আলম বাবুল গংরা। এ ঘটনায় আশুজিয়া গ্রামের (দাওরাট) মৃত কিতাব আলীর ছেলে বাবুল মিয়া কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি তার অভিযোগে বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ফিশারীর উৎপাদিত মাছ ও হাওরের ফসল পরিবহণ করে বাজারজাত করণের রাস্তা এটি। কিন্তু প্রতিহিংসাবসত নওশের আলম বাবুল ও তার লোকজন জোর আমলে রাস্তাটি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তারা ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন দিয়া চলাচল করতে পারছেন না। এতে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আশুজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলী জানান, জনগণের চলাচল ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহণের সুবিধার্থে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় একটি কর্মসূচি দিয়েছিলাম। কিন্তু নওশের আলম বাবুল গংরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে রাস্তাটি একটি অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৭ জানুয়ারি তার কার্যালয়ে একটি শুনানি গ্রহণ করেন। পরে তিনি বদলি হয়ে চলে যাওয়ায় এ বিষয়ে আর কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

৩১ জানুয়ারি বুধবার সরেজমিনে গেলে নওশের আলম বাবুল রাস্তা কেটে ফেলায় ও কর্মসূচিতে বাঁধা দেওয়ার কথা শিকার করে বলেন, এখানে কোন সরকারি রাস্তা নেই। এই জায়গা আমার মায়ের নামে দলিল ও বিআরএস রেকর্ড আছে। ৩/৪ বছর আগে একটি ইট ভাটার লোকজন গ্রামের লোকদের কাছ থেকে মাটি কিনে নেওয়ার জন্য এই রাস্তাটি কিছুদিনের জন্য করেছিলেন। কথা ছিল মাটি নেওয়ার পর তারা নিজেরাই রাস্তাটি বন্ধ করে দিবেন। কিন্তু তারা কথা দিয়ে কথা রাখেনি। এখন আমার ব্যক্তিগত জায়গা দিয়ে কেন সরকারি কর্মসূচি দিল। এই কর্মসূচি দেওয়াতে আমি রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। আমি রাস্তা কেটে ফসলি জমি বানাবো।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com