জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নে মাকে ভরনপোষণ না দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে, পুলিশের হাতে আটক শিক্ষক ছেলে আঃ জলিল (৪০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান। সে শ্যামের পাড়া ফিরোজা মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক।
পুলিশ ও মামলার এজাহারে সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মহাদান ইউনিয়নে বাশঁবাড়ী এলাকায় মৃত আব্দুল বারেকের স্ত্রী খোদেজা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে জলিল ও মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিল খোদেজা বেগম। মেয়ের বিয়ে হওয়ার পর থেকে বসতবাড়ির সকল জমিজমা লিখে দিতে মাকে জোরপূর্বক চাপ দিতে থাকে ছেলে জলিল মিয়া। ছেলের কথা অমান্য করায় শাস্তিস্বরূপ মাকে থাকার ঘর থেকে বের করে রান্না ঘরে থাকতে দেয় ছেলে। এ ঘটনায় বৃদ্ধ নারী মেয়ের বাড়ীতে চলে যায়। কিছুদিন পর ফিরে আসলে ফের জমিজমা ও গরু-ছাগল লিখে দিতে বলে। এতে রাজি না হলে মাকে মারধর করে ফের বাড়ী থেকে বের করে দেয় মাকে। পরে ভুক্তভোগী মা ছেলের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
পরে অসহায় বিধবা মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ছেলে আ. জলিলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ৫ (১) ধারায় মামলা রুজু করে গতকাল রাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ভরণপোষণ না করে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় জলিল নামে এক ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক মা। অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে বুধবার সন্ধ্যায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান বলেন, বিধবা মাকে তার একমাত্র ছেলে ভরণপোষণ না দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে তিনি থানায় এসে ছেলে বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়