1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

সরিষাবাড়ীতে মুরাদ সমর্থকদের উপর নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ১০ নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর

তৌহিদুর রহমান
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি জামালপুরঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকে ঘিরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সংঘাত-সংঘর্ষ থামছেই না। এসব ঘটনার বেশির ভাগই ঘটছে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা: মুরাদ হাসান (ঈগল প্রতিক) এর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর ও ১০ সমর্থককে আহত করেছে নৌকার প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলালের সমর্থকরা ।

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৮ টায় সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার তাড়িয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ৮:৩০ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এর মধ্যে ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম। আহতরা হলেন মাইজবাড়ী গ্রামের রইচ মন্ডলের ছেলে রুবেল (৩০),আলা উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম (৩২), রইচ উদ্দিনের ছেলে রোকন (২৮), সুরুজ্জামানের ছেলে কফিল সরকার (২৫), মরহুম শামছুল এর ছেলে দিলখুশ (৪০), তাড়িয়াপাড়া গ্রামের শাহীনের ছেলে হামজা(১৮), শিমলা পল্লী এলাকার আহমেদ আলীর ছেলে ফারুক (২৫), আব্দুল জলিলের ছেলে ফরহাদ (২২)।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পৌরসভার শিমলাপল্লী গ্রামের তাড়িয়াপাড়া এলাকায় কয়েকদিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতিক) ডা. মুরাদ হাসান একটি নির্বাচনী ক্যাম্প নির্মান করেন। সোমবার রাত পৌনে আটটার দিকে তার কর্মী-সমর্থকরা ওই নির্বাচনী ক্যাম্পে যাচ্ছিলেন। ওই ক্যাম্পের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকে উতপেতে থাকা নৌকার প্রতিকের কর্মী সমর্থকরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মুশফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে জামালপুর থেকে র‍্যাব ১৪ সদস্যরা এসে উভয় পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেন। আহত দিলখুশ জানান, আমরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ করি। সরিষাবাড়ীতে আমরা রাজনীতি করি। আমরা যে যে জায়গায় যাইতেই পারি। আমরা নৌকার বিরুদ্ধে নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ জুব্বার কয়েলের ছেলে মান্নান টাকা খরচ কইরা একজন প্রার্থী হাত নিয়া আমাদের ওপর অন্যায় অত্যাচার করে আসছে। আমাকে আহত করেছে আমি শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই। আমি আওয়ামীলীগ কইরা দুইটা মাডার মামলা, অনেক গুলা মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে হয়রানী হয়েছিলাম। এই আওয়ামীলীগ কইরা আমি আমার বাপেরে মাটি দিতে পারিনি। আমরা অফিসে বসে ছিলাম নৌকার প্রার্থী হেলালের সমর্থকরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। আহত রুকন জানান, আমরা বসে নির্বাচনী অফিসে। এই সময়ে মান্নান ও কয়েকজন লোক গিয়ে পোলাপানদের জুতা দিয়া মারতেছিল। ওই টাইমে অফিস থেকে বাইরে বের হলে মান্নান সহ ২০/২৫ জন নৌকার সমর্থকরা এসে আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর ও আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা বিচার চাই।

এদিকে পৌর কাউন্সিলর সাখাওয়াতুল আলম মুকুল জানান, তাড়িয়াপাড়ায় ঈগল প্রতিকের নির্বাচনী অফিসে আমাদের লোকজন বসে ছিল। এ সময়ে নৌকা প্রতিকের লোকজন হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে পাশাপাশি চায়ের দোকানদারকেও মেরে আহত করেছে ।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এদিকে নৌকার প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলালকে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মুশফিকুর রহমান জানান, উভয় পক্ষ মারমুখী অবস্থায় হলে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com