1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

৩ বছরে দেশের অন্যতম বিদ্যাপিঠ ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ

নাজিম বকাউল
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৭৩০ বার পড়া হয়েছে
বিগত ৩ বছরে দেশের অন্যতম বিদ্যাপিঠ হিসেবে পরিণত হয়েছে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ। আর এ সাফল্যের পিছনে রয়েছে একজন দক্ষ ও মানবিক অধ্যক্ষ ডা: মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন পরিচালক হিসেবে ২০২০ ইং সালের ৩০ শে জুন।
মেডিকেল কলেজ সুত্রে জানা যায়,  অধ্যক্ষ ডা: মোস্তাফিজুর রহমানের যোগদানের পর থেকে উক্ত মেডিকেল কলেজের র‍্যাংকিং,   ক্যাম্পাস,  প্রশাসনিক পরিবর্তন সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সাধিত হয়৷ এ ব্যাপারে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের পরিচালক  অধ্যক্ষ ডা: মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি তার বর্ণনা করেন।
তিনি জানান তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য:   বাষির্ক কর্ম সম্পাদন চুক্তি  (এপিএ) ২০২২-২৩  ইং র‍্যাংকিং  এ প্রথম স্থান অর্জন,  শ্রেষ্ঠ মেডিকেল শিক্ষকদের মধ্যে ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন,  পেশাগত পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থীর অনার্স মার্ক অর্জন,  পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (ডিজিও ও অর্থোপেডিক্স) পরীক্ষায় শতভাগ পাশ, গবেষণা: বিগত ১৪ বছরে ১০১ (একশত এক) টি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে এবং তা খবর  আকারে প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরে বছর ফিজওলোজী এবং কমিউনিটি মেডিসিনে শতভাগ পাশ,স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর: (১লা জুলাই) ২০১৭তারিখে ১৭ একর জায়গা জুড়ে স্থায়ী নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়। এছাড়া আসন সংখ্যা বৃদ্ধি,   কলেজ স্থাপনের বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির আসন থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রতি বছর ১৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়। চলতি বছর থেকে ২০০ জন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হবেন।
তিনি আরো জানান, পোষ্টগ্রাজুয়েশন কোর্স চালু : ২০১৬ সালের১৬ জুলাই  ডি.অর্থো এবং তারপরে জুলাই/২০২০ সালে ডিজিও কোর্স চালু হয় ।তার দায়িত্বরত অবস্থায় ০৪.০৪.২০২১ ইং এ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন হয়ে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর” করা হয় ।স্বীকৃতি : পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী সমূহ ও বিভিন্ন বিষয়ে পোষ্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিং বিসিপিএস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএসএমএমইউ কর্তৃক স্বীকৃত।
কোভিড ১৯ কালীন কাযর্ক্রম : নিরবছিন্ন শিক্ষা কাযর্ক্রম  পরিচালনার স্বার্থে ২টি স্বয়ংসম্পূর্ন     ই-ক্লাসরুম চালুকরন, প্রত্যেক বিভাগের নিজস্ব জুম আইডিতে  ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহন এবং করোনা ল্যাব স্থাপন করে বৃহত্তর ফরিদপুরে করোনা রোগ সনাক্তকরন সুবিধা প্রদান করা হয় ।
কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধন : সম্পুর্ন কলেজ ক্যাম্পাসকে ফুলবাগান ও বৃক্ষ  সুশোভিত  করে দৃষ্টি নন্দন  করা হয়।শেখ রাসেল রিজিওনাল ট্রেনিং সেন্টার ফর মেটার্নাল  এন্ড  নিওবন হেলথ স্থাপনের মাধ্যমে পদ্মার এ পারে মা ও শিশু বিষয়ক ট্রেনিং এর সুবিধা প্রদান করা হয় ।
এন্টির-র‍্যাগিং কার্যক্রম : গত ৩ বছর যাবত র‍্যাগিং বিরোধী কার্যক্রম গ্রহেন করা হয় এবং ছাত্র –ছাত্রীদের  মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন সেশন ও  কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় ।
বিভিন্ন স্থাপনা: মুজিব পুষ্প কানন, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, বোন্‌স লাইব্রেরী, সমস্ত ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত করণ ও আলেকিত করণ, একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস সহ সমস্ত ক্যাম্পাস উচ্চগতি সম্পন্ন  Wifi নেটওয়ার্কের আওতাভূক্ত করণ, পিসিআর ল্যাব চালু করণ, উন্নতমানের মাইক্রোবায়োলজী ল্যাব স্থাপন, সার্ভিস ল্যাব চালুকরণ এবং রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্নকরণ, আধুনিক ট্রেনিংরুম স্থাপন, ‍ই-লাইব্রেরী ও সিমুলেশন ল্যাব স্থাপন এর মাধ্যমে পাঠদান ও শিক্ষা সহজীকরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ।
সক্ষমতা বৃদ্ধি: শিক্ষকদের রিসার্চ মেথডোলজি এবং টিচিং মেথডোলজির উপর নিয়মিত ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ডি-নথি, পিপিআর ইত্যাদি প্রশিক্ষণ আয়োজন। কলেজের নিজস্ব bsmmc apps এর মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাসে হাজিরা প্রদান এবং আইটেম, কার্ড ফাইনাল, টার্ম ফাইনাল ও এসেসমেন্ট পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়।
অন্যান্য : প্রতিষ্ঠানের  ওয়েব সাইট তৈরী, কলেজের নিজস্ব অ্যাপ্‌স তৈরীকরণ যার সাহায্যে শিক্ষার্থীদের লেকচার, ওয়ার্ড (ব্যবহারিক) এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের হাজিরা পর্যবেক্ষন , প্রত্যেক বিভাগের নিজস্ব     ই-মেইল আইডি তৈরী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ইউনিক ই-মেইল আইডি তৈরী, লাইব্রেরীতে কম্পিউটার, প্রিন্টার ফটোকপিএবং স্ক্যানার ব্যবহারের সুযোগ, নিয়মিত জার্নাল প্রকাশনা, বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও ফুলের বাগান তৈরী, শিক্ষার্থীদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ আয়োজন, স্মরণিকা প্রকাশ। এমনকি ই-লাইব্রেরী চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।
দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, পুকুর সংস্কারকরণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির  মাছ চাষ, কৃষি খামার, সবজি বাগান, মৌমাছি চাষ, ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পালন, আয়রন ও আর্সেনিক মুক্ত পানির ব্যবস্থা, ছাত্র ছাত্রীদের হোষ্টেলে অত্যাধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত গার্ডরুম স্থাপন।
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ এর অধ্যক্ষ ডা মো  মোস্তাফিজুর রহমানের অবদানের বিষয় তুলে ধরে কলেজের  ( নাক-কান-গলা ) বিভাগের প্রধান  বিশেষজ্ঞ ডাঃ শফিকুর রহমান ও সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ রতন কুমার সাহা জানান , বর্তমান অধ্যক্ষ তিনি কলেজের উন্নয়ন , অবকাঠামোসহ দৃশ্যমান অনেক কাজ করেছেন এবং সব সময়ই ছাত্র- ছাত্রীদের প্রতি লেখাপড়া র জন্য সুদৃষ্টি রেখেছেন ।ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ এর প্রধান সহকারী সেলিম আব্দুর রব ও ষ্টোর ইনচার্জ অজয় কুমার জানান , অধ্যক্ষ স্যার আমাদের সব সময় সন্তানের মতো দেখেছেন। কলেজের যেকোন ব্যাপারে স্যারের সাথে আলাপ করলে উনি সাথে সাথে এর সমাধান করেছেন । উনি একজন উদার ও বড় মনের মানবিক ডাক্তার ।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com