1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ধামইরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সাতক্ষীরার কলারোয়ার পুত্রবধূ তুলি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ২৭ আসামি গ্রেফতার মাদারীপুর শিবচরে তেলবাহী ট্রাক ডাকাতি মামলায় দুইজন গ্রেফতার জ্বালানি পেতে সেচ পাম্প নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকের ভিড় মাদারীপুরে বেকারিকে নিরাপদ খাদ্য আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা

৯ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক, ৩২ লাখ টাকার ব্রিজের সুফল বঞ্চিত মানুষ

মোঃ রেজাউল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ২০০ বার পড়া হয়েছে

গ্রামীণ সড়কের মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কংক্রিটের ব্রিজ। দুই প্রান্তে ঝোপ জঙ্গল। কেবল সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজ নির্মাণের সুফল পাচ্ছে না গ্রামীণ সড়কে চলাচলকারী সাত গ্রামের কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ।

ব্রিজটির অবস্থান কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ও যাদুরচর ইউনিয়েনের মধ্যবর্তী কর্তীমারি বাজার থেকে দুবলাবাড়ি বাজার সড়কের পুরাতন যাদুরচর নামক এলাকায়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়  সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলার পুরাতন যাদুরচর এলাকার ময়নাল মেম্বরের বাড়ির পাশে ভেঙে যাওয়া সড়কে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ ব্রিজ  নির্মাণে সরকারের ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা ব্যয় হয়।

৯ বছর আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও হয়নি সংযোগ সড়ক। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী হাজারও মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি এ অবস্থায় পড়ে থাকায় কার্যত বিফলে যাচ্ছে সরকারি কোষাগারের মোটা অঙ্কের টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার দুবলাবাড়ি, পুরাতন যাদুরচর, ঝাউবাড়ি,বকবান্ধা, খেওয়ারচর, কাশিয়াবাড়ি ও বাওয়াইরগ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে ব্রিজটি প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে। সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ব্রিজের দুই পাশে ঝোপ জঙ্গলে ভরা। তার মাঝ দিয়ে পথিকের হাঁটার ছাপে সরু পথ তৈরি  হয়েছে।

দুবলাবাড়ি বাজার এলাকার বাসিন্দা সহিদ মাসউদ আহমেদ, কৃষক জয়েন উদ্দিন, রুহুল আমিনসহ ওই সড়কে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুবলাবাড়ি বাজার থেকে কর্তিমারী বাজারে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ব্রিজে সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যায় না। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে তিন কিলোমিটার পথ যাতায়াত করতে হয়। এর কোনও বিকল্প নেই। ব্রিজটিতে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সড়কটি পাকা করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, ‘আগে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার হাজারও মানুষ সাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান নিয়ে চলাচল করতো। ব্রিজ নির্মাণের পর এর দুই পাশে মাটি দিয়ে ভরাট না করায় ওই সময় থেকে রাস্তাটি যানাবহন নিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। দুর্ভোগ কমাতে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে।’

রৌমারী উপজেলা পিআইও সামসুদ্দিন বলেন, ‘কাজটি আমার সময়ের নয়। সেতুটি যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় তাহলে আমরা সেটি যানচলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করবো।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘সংযোগ সড়ক নেই বিষয়টা এমন নয়। বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গেছে। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি এটি ঠিক করে দেবো।’

তবে পূর্বে সংযোগ সড়ক থাকা নিয়ে ইউএনও’র দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি ওই সড়কে চলাচলকারী গ্রামবাসী। তাদের দাবি ব্রিজ নির্মাণের পর থেকে কোনও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com