আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাগুরা জেলায় হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অনলাইন প্রতারক চক্র। এই চক্রটি অভিনব সব কৌশলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তবে তাদের এবারের প্রধান লক্ষ্যবস্তু বা নিশানায় রয়েছেন স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি কখনো সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আবার কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের ফোন করছে। তারা শিক্ষকদের বিভ্রান্ত করতে পরিবারে সদস্যদের বিপদের মিথ্যা খবর দিচ্ছে। বিশেষ করে, ‘আপনার পরিবারের কোনো সদস্যকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে’—এমন আতঙ্কজনক সংবাদ দিয়ে দ্রুত টাকা দাবি করছে। সম্মানের ভয়ে অনেক শিক্ষক যাচাই-বাছাই না করেই বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মফিজুর রহমান এবং কুমারকোটা আলিম মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইনায়েত আলী এই চক্রের ফাঁদে পড়ে ৬৬ হাজার টাকা খুইয়েছেন। এছাড়া সেওজগারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন বিশ্বাসকেও একইভাবে ফোনে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি সময়মতো সতর্ক হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি থেকে বেঁচে যান।
প্রতারক চক্রটি সাধারণত ০১৮৫০-০১২৯৭৫, ০১৮৫০-০১২৬৪৯ এবং ০১৩৩৮-৫২৫৯৯৩—এই নম্বরগুলো ব্যবহার করে কল করছে বলে জানা গেছে।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান:
”মোবাইলে কেউ টাকা দাবি করলে পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না। বিশেষ করে আসন্ন ঈদের এই সময়ে প্রতারকরা বেশি সক্রিয় থাকে। এ ধরনের ফোন কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সচেতন মহল মনে করছে, গ্রামীণ পর্যায়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক প্রসারের সুযোগ নিচ্ছে এই চক্রটি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে ঈদকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।