বাংলা ভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক ২০২৫-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা।
রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসার দীর্ঘদিনের ভাষাবিজ্ঞান গবেষণা ও মাতৃভাষার বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছি। আমার গবেষণার মূল ক্ষেত্র ভাষাবিজ্ঞান, যেখানে এখনো বেশ কিছু কাজ বাকি আছে। এই সম্মান শুধু আমার একার নয়, আমার সহকর্মীদেরও। তাদের সহযোগিতায়ই আজকের এই অর্জন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন এই অর্জনকে গর্বের বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, “আমাদের অধ্যাপক মনসুর মুসার এই অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। সমাবর্তনের পর তার গবেষণা কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের জানাতে আমরা একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করব।” এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পাচ্ছেন আরও দুই ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান: জোসেফ ডেভিড উইন্টার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশের রচনাবলি অনুবাদ এবং বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণে অবদানের জন্য। বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস – বাংলা ভাষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগের জন্য।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টায় ইউনেস্কো আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বার্তা দেবেন। এই আয়োজনে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক ২০২৫ প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক বিজয়ীদেরকে প্রদান করা হবে—
* ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক ।
* সম্মাননাপত্র।
* ৪ লাখ টাকা বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা।
বাংলা ভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসার এই অর্জন বাংলা ভাষার গবেষণা জগতে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই সম্মাননা মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষকদের আরও উৎসাহিত করবে।