ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম আকন্দ (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মাইজবাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও নিজগাঁও গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে মাইজবাগ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজগাঁও গ্রামে এই ঘটনার অভিযোগ উঠে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার ভুক্তভোগী কিশোরীর খালাতো বোন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে কিশোরীর খালাতো বোন জানান, প্রায় এক বছর আগে টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে খোকন মিয়ার ছেলে রুমন মিয়া (২১)-এর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২ নভেম্বর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর কয়েকদিন তিনি রুমনের বাড়িতেও অবস্থান করেন। পরে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিষয়টি দেখভালের আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, সেই আশ্বাসে গত সোমবার বিকেলে তিনি বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে রুমনের বাড়িতে যান এবং নিরাপত্তাহীনতা বোধ করায় সঙ্গে কিশোরী খালাতো বোনকেও নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম তাদের বাড়ি ছাড়তে চাপ দেন এবং হুমকি দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইউপি সদস্যের লোকজন তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এক পর্যায়ে কিশোরীকে আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। এতে কিশোরী আহত হয় এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরদিন সকালে কিশোরীকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তারা থানায় এসে অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।