সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের পর আবারও উদ্ধারকৃত জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। রাতের আঁধারে চলছে নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম।
কয়েক মাস আগে সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি বসতবাড়ি নির্মাণ করে জায়গা দখল করে রেখেছিল তারা আবারও সেই স্থান দখলে নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করেছে।
একইভাবে যারা দোকানপাট নির্মাণ করে জায়গা দখল করেছিল তারাও পুনরায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জায়গা দখলে রেখেছে। এমনকি কেউ কেউ রাতের আঁধারে স্থায়ীভাবে দখলের উদ্দেশ্যে ইটের গাঁথুনি ও ঢালাই ছাদ দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে দখলদারদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং কয়েকজন দখলদার সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ারও চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বসতবাড়ি ও দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছিল। বছরের পর বছর এসব জায়গা প্রভাবশালী দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছিল কলোনি ও বস্তি।
এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই আবারও সড়কের দুই পাশ দখল হয়ে যায়।
সর্বশেষ অভিযানে সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয় এবং দখলকৃত স্থাপনায় লাল কালি দিয়ে ক্রস চিহ্ন এঁকে চিহ্নিত করা হয়। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয় এবং দখলদারদের আর্থিক জরিমানাও করা হয়।
তবে উচ্ছেদের কয়েক মাস না যেতেই আবারও একই স্থানে অবৈধ দখলের পায়তারা শুরু করেছে একটি প্রভাবশালী দখলদার চক্র।