ঝিনাইদহের একসময়ের প্রমত্তা নবগঙ্গা নদী এখন আর মুক্ত প্রবাহিত কোনো জলধারা নয়; বরং এটি রূপ নিয়েছে ঘন সবুজ কচুরিপানা, পলি আর প্লাস্টিক বর্জ্যের এক বিশালাকার সমাবেশে। নদীর মাইলের পর মাইল এলাকা জুড়ে কচুরিপানার ঘন জট আচ্ছন্ন করে রাখায় পানির স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এককালের বাণিজ্য ও কৃষির প্রধান পথটি এখন পচা পানির এক দূষিত নালায় পরিণত হয়েছে।
পৌর এলাকার ধোপাঘাটা সেতু থেকে শুরু করে শহরের ভেতরের অংশ পর্যন্ত নদীর উপরিভাগ প্রায় পুরোপুরি কচুরিপানায় ঢাকা। কচুরিপানার এই ঘন আস্তরণের কারণে’ অক্সিজেন সংকট, পানিতে সূর্যের আলো ও বাতাস না পৌঁছানোয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, ফলে মরছে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। কচুরিপানা পচে এবং শহরের নর্দমার বর্জ্য মিশে বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা নদী তীরবর্তী অধিবাসীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এছাড়াও মশার উপদ্রব বেড়েছে শহরজুড়েই। স্থায়ীভাবে আটকে থাকা এই কচুরিপানা এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দখলদারিত্ব ও নাব্যতার দৈন্যদশা কচুরিপানার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হওয়ার মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত দখল ও পলি পড়া।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শহরের ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক সরাসরি নদীতে ফেলার পাশাপাশি নদীর সীমানা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। নদীর কূল ভরাট করে চাষাবাদ এবং পাড় ঘেঁষে মাটি ফেলে নদীকে কৃত্রিমভাবে সংকীর্ণ করা হচ্ছে। পানির গতিবেগ না থাকায় উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা ভাটিতে গিয়ে আটকে পড়ে স্থায়ী জটের সৃষ্টি করছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা ও পরিবেশ প্রেমীদের মতে, লোক দেখানো কিছু পরিষ্কার অভিযান চালানো হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান মিলছে না। নদী থেকে শুধু কচুরিপানা তুললেই হবে না, উজান থেকে এর স্থায়ী অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবহমানতা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত ড্র্রেজিং প্রয়োজন ব’লেও তারা জানান এবং ঝিনাইদহবাসীর প্রাণ নবগঙ্গা নদীকে দখল ও দূষণ মুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহমান নিশ্চিত করারও দাবী জানান স্থানীয় জনগণ।




