1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভোলায় নিখোঁজ হওয়া ৩ মাসের শিশু উদ্ধার; ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকের জিম্মায় প্রদান মাদারীপুরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক জামালপুরে ৩টি বিপণিবিতান ও ২টি দ্রব্যসামগ্রীর দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা যশোরে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ বগুড়ার শিবগঞ্জে সিটিজেন গ্রুপের ৩য় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুর লাশ উদ্ধার, এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ চট্টগ্রাম ১৫ আসনের সংসদ সদস্যের সাথে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের মত বিনিময় মিঠাপুকুরে বড়হয়রতপুর ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা কমলনগরে মেঘনায় অবৈধ জালের দখল নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নৌকা ডুবির ঘটনায় জেলেপাড়ায় আতঙ্ক বগুড়ায় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সম্মানে জামায়াতের ইফতার মাহফিল

‎কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী সাংসদের প্রার্থীতা সমীকরণ- অদম্য এক নাম অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি

মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে
চর থেকে শহর—অসহায়ের ঘরে আলো জ্বালাচ্ছেন অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি।
কেউ তাকে বলেন ‘মা’, কেউ বলেন ‘আশ্রয়ের ঠিকানা’। আবার কারও কাছে তিনি নিঃশব্দ বিপ্লবের নাম। দীর্ঘ তিন দশক শিক্ষকতা শেষে অবসরে গেলেও মানবসেবার ময়দান থেকে একদিনের জন্যও সরে দাঁড়াননি নাজমুন নাহার বিউটি। বরং অবসর-পরবর্তী সময়েই তার মানবিক উদ্যোগ পেয়েছে নতুন গতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে বৈবাহিক সূত্রে ১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রাম শহরের নাজিরা নিউটাউন এলাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি। রাজারহাট উপজেলার সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজে টানা ৩০ বছর অধ্যাপনা শেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসর নেন। শিক্ষক হিসেবে যেমন ছিলেন স্নেহময়ী ও নীতিবান, তেমনি সমাজসেবায় তিনি সাহসী ও উদ্যোগী।
ছোট থেকে বড়—সহায়তার হাত বাড়িযে দেয়া তার স্বভাব, ছোটবেলা থেকেই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো তার সহজাত অভ্যাস। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শুরু করা সেই পথচলা আজ বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছেছে। পরিবারে তিনি ও তার ছোট বোন দেশে থাকলেও অন্য সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজনে আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় তিনি এগিয়ে যান—আর সেই সহায়তায় অনেক অসহায় পরিবার ফিরে পায় বেঁচে থাকার শক্তি।
করোনাকালে ‘মানবতার সেতুবন্ধ’
করোনার সময় কর্মহীন মানুষের খাদ্যসংকটে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ছিল সবচেয়ে বিপন্ন। ঠিক তখনই ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরে পৌঁছে দেন ৪০০ পরিবারের জন্য ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী। একইভাবে কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নে ৩০০ পরিবারকে দেন খাদ্য সহায়তা।
শুধু খাদ্য নয়, কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে প্রায় ১২০০ নারী-পুরুষের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেন। ঈদ-পার্বণেও তার সহায়তার হাত থাকে অব্যাহত।
‘স্থায়ী সমাধান’—ঘর নির্মাণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
তার মানবিক কাজের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক—অসহায়দের জন্য বসতঘর নির্মাণ। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি পরিবারকে নতুন ঘর তুলে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, “একদিনের খাবার মানুষকে বাঁচায়, কিন্তু একটি ঘর মানুষকে নিরাপত্তা দেয়।”
২০২৪ সালের ২০ জুলাই গণঅস্থিরতার সময় কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের রাজমিস্ত্রী নুর হোসেন গাজীপুরের চৌরাস্তায় গুলিতে নিহত হন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তান জন্ম দিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর নাজমুন নাহার বিউটি নিজে ভোগডাঙ্গার কাঁচিচর মুন্সিপাড়ায় গিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন।
সম্প্রতি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সরদারপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত দিনমজুর শাহিন মিয়া ও তার বিধবা মায়ের জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।
চরাঞ্চলের উন্নয়নে জনমত গঠন
কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা হিসেবে পরিচিত। নদীবিধৌত চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চিলমারীর কড়াই বরিশাল, কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র-বিচ্ছিন্ন কালীর আলগা এবং ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোলক মন্ডল চরসহ বিভিন্ন চরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে আলাদা মন্ত্রণালয়ের দাবিতে জনমত গড়ে তুলছেন তিনি। তার দাবি—চরবাসীর জন্য বিশেষায়িত পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়।
মানবিকতার পাঠশালা অবসর প্রাপ্ত এই শিক্ষিকা আজ কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি বার্তা—সামর্থ্য যতটুকুই হোক, ইচ্ছাশক্তি থাকলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তার উদ্যোগে ঘর পেয়েছে পরিবার, খাবার পেয়েছে ক্ষুধার্ত মানুষ, আর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছে অসংখ্য শিশু।
কুড়িগ্রামের মানুষ বলছেন, “নাজমুন আপা থাকলে আমরা একা নই।”
অবসর তাকে থামাতে পারেনি—বরং তিনি প্রমাণ করেছেন, মানবতার কোনো অবসর নেই।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com