কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ী হাটবাজারে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একটি বৃহৎ আকৃতির সরকারি কড়ই গাছ অবৈধভাবে কর্তনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলায় খড়িবাড়ী হাটবাজার পরিচালনাকারী মোশারফ হোসেন দুলাল তার কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বাজারের পূর্ব পাশে তাহের প্লাজা (মাংসের হাট সংলগ্ন) টয়লেটের পাশে থাকা গাছটি কেটে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন রাখতে গাছটির গোড়ার অংশ মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয় বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে এলে সরকারি গাছ কর্তনের ভিডিওচিত্র ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও গাছ কর্তনের বিষয়টি স্বীকার করার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ার পরও প্রথমদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি সম্পদ বিনষ্ট ও আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ ) ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, সরকারি গাছ কর্তন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।