দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুজ্জামান সেলিম খান গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনের রয়েছে। এতে সেবা গ্রহীতা ইউনিয়নবাসী হতাশ হয়ে পড়েছেন । ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। সে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। হাসিনা সরকার পতনের পর তিনি ২০ দিন হাজত খেটেছে।রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলা এড়াতেই সে আত্মগোপনে রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও, প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব না দিয়ে পরিষদে অনুপস্থিত থেকেও এখনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে লাপাত্তা সেই চেয়ারম্যান। এমনটাই জানান ইউপি সদস্যরা।তাই সেবা না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন ইউনিয়নবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালিত হতো চেয়ারম্যানের নামের ব্যাংক হিসাবে। তিনি না থাকায় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট আয়ের টাকা ব্যাংকে জমা করতে পারলেও উত্তোলন করতে না পারায় ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব। ইউপি সেবা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিষদের সচিব ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারের ভয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে পরিষদে আসেন না। তিনি না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।তবে সব ধরনের ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান সেলিম খান। দফাদার জাকিরুল ইসলাম বলেন পরিষদের সকল কাগজপত্র আমি সহ অন্যান্য চৌকিদাররা চেয়ারম্যান যেখানে যেতে বলেন ওইখানে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি, এমনকি কোন কোন দিন চেয়ারম্যানের বউয়ের স্কুলে কাগজপত্র দিয়ে আসি পরদিন তিনি স্বাক্ষর এনে দেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা কোনো কাজে আসলে ঘুরতে ঘুরতে স্যান্ডেলের তলা ক্ষয় হয়ে যায়। আজ না কাল বলে বলে ঘুরায়।তারা আরো বলেন,চেয়ারম্যান অফিসে না এসেও বেতন, ভাতা সহ সকল সুবিধা ভোগ করছেন কিন্তু আমরা আমাদের কাজে এসে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছি।এই হয়রানির শেষ কোথায়, হয়রানি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন , আমার কাছে কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।আপনাদের কাছেই জানলাম আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।