ছাত্ররাজনীতি থেকে তিনবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান—সংগ্রাম, কারাবাস ও মানবিক নেতৃত্বে এক অনন্য পথচলা
ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে যে নামটি আস্থা, সাহস ও জনসেবার প্রতীক হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি মোহাম্মদ ফেরদৌস কোরাইশী চেয়ারম্যান। গ্রামের সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতা আজ নিজ যোগ্যতা, সততা ও আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে এলাকাবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। মামলা-হামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও কারাবরণের মতো কঠিন অধ্যায় পেরিয়েও তার নেতৃত্ব থেমে থাকেনি।
ছাত্রজীবনেই নেতৃত্বের বীজ
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রজীবন থেকেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজনীতিতে। পড়াশোনাকালীন সময়েই লেমুয়া উচ্চ বিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের সময়েও রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে তিনি একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হন।
ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতায় তিনি লেমুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করান।
চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়নের রূপকার
২০০২ সালে লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোহাম্মদ ফেরদৌস কোরাইশী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।
রাস্তা-ঘাট সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান—এসব মানবিক উদ্যোগ তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছের মানুষ করে তোলে।
তার দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি তিনবার ফেনী সদর উপজেলা-র শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
কারাগারের দিনগুলো: অদম্য মনোবল ও আত্মশুদ্ধির অধ্যায়
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল দীর্ঘ কারাবাস। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হতে হয়। বর্তমানে তার নামে প্রায় এক ডজন মামলা চলমান রয়েছে।
কারাগারে কাটানো সময় সম্পর্কে তিনি এক বক্তব্যে বলেন,
“কারাগারের প্রতিটি দিন আমাকে আরও দৃঢ় করেছে। আমি উপলব্ধি করেছি—রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়, তবে ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। মিথ্যা মামলা বা কারাবাস আমাকে থামাতে পারেনি, বরং মানুষের ভালোবাসাই আমাকে শক্তি দিয়েছে।”
তার মতে, কারাগার ছিল আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার সময়। সেখানে থেকেও তিনি এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন পরিবারের মাধ্যমে এবং মুক্তির পর আবারও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
রাজনীতি মানেই মানুষের সেবা
মোহাম্মদ ফেরদৌস কোরাইশীর বিশ্বাস—রাজনীতি ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগের মাধ্যম। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়ন ও জনকল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তার ভাষায়,
“মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পদ-পদবি নয়, মানুষের দোয়া নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই।”
সংগ্রাম থেকে প্রেরণা
ছাত্রনেতা থেকে তিনবারের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান—এই দীর্ঘ পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি সংগ্রাম, ত্যাগ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ। মামলা, হামলা ও কারাবাসের কঠিন সময় অতিক্রম করেও তিনি যে অবিচল থেকেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
জনসেবার রাজনীতিতে তার এই অবদান ফেনীর রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন