1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার! লালমোহনে দুই ব্যবসায়ীর উপর হামলা ও টাকা ছিনতাইর অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা

মাহবুব হাসান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের জুরকাঠী গ্রামে ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। নিহত ব্যক্তি মোঃ রবিউল ইসলাম মিলন (৩৩) ছিলেন হাওলাদার পরিবারের সদস্য। পরিবারের ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা ও জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছিলেন।
তবে ব্যবসায় লোকসান এবং কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপ তার উপর ক্রমেই বাড়ছিল। আজ (১১ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে সেহরির পর তিনি নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে দ্রুত নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারার কারণে তিনি প্রায়শই মানসিকভাবে অস্থির থাকতেন। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার অনেক যুবক ও পরিবার এই ধরনের ক্ষুদ্রঋণের জঞ্জাল ও চাপে দারিদ্র্য ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নলছিটি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকলেও ঋণের চাপকে মূল কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করা হচ্ছে, ঋণ বিতরণ ও আদায় প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন করুণ ঘটনা রোধ করা যায়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com