গ্রাম বাংলা আজ বদলে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির সংস্পর্শে। বর্তমানে কৃষক বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষি কাজ করেছে।
ভোলা জেলার ঐতিহ্যবাহী চরফ্যাশন উপজেলায় আবু কালাম পেশায় একজন রিক্সা চালক। গাড়ি চালিয়ে সংসার চলে তার। সামান্য কিছু জমানো টাকা দিয়ে ২৫ শতক জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। কখনো সেচের অভাব,আবার কখনো পোকামাকড়ের আক্রমণ করে। আবার কখনো ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তার আয় ছিল সামান্য । কিন্তু তিনি এবছর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন। কৃষি অফিসের প্রণোদনা ও সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। যেখানে মাটির আর্দ্রতা ঠিক রাখতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।পোকামাকড় আক্রমণ করাতে বারবার মালচিং ব্যবহার করে। পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়েছে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ। যার ফলে সুতা ও বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলে আছে টমেটো আর টমাটো (স্মার্ট ২২১৭ এবং বাহুবলি) জাতের টমেটো। এভাবে টমেটো চাষে আবু কালামের শুধু খরচই কমেনি, ফসলের উৎপাদনও বেড়েছে কয়েকগুণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, টমেটো চারা রোপণের আগে, দুটি জমিতে পৃথক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টমেটো চাষ করা হয়েছে। যাহা ইতি পূর্বে কখনো হয়নি, একদিকে শুধু সুতা আর বাঁশের চটা দিয়ে মাচা করে টমেটো চাষ করা হয়েছে। অন্যদিকে জৈবসার দিয়ে জমিটা ভালোভাবে প্রস্তুত করে আলাদা আলাদা বেড করে মালচিং পেপার দিয়ে বেডটা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। দুই ফুট দূরুত্বে টমেটো গাছ লাগানো হয়েছে। সুতা ও বাঁশের চটার মাচায় গাছগুলো বেড়ে উঠেছে। গাছের নিচ থেকে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে টমেটো। দুটি জমিতে আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ফলনও পেয়েছেন ভিন্ন। আবুল কালাম ও তার দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে মিলে টমেটো ক্ষেত পরিচর্যা করেন। আর কিছুদিন পরেই এই টমেটোগুলো বাজারে ভালো দামে বিক্রয় করবেন এমনি প্রত্যশা তাদের। তারা বলেন এবার টমেটো ভালো বাম্পার ফলন পাবে বলে আশা করে চাষি আবুল কালাম।