নীলফামারীর ডোমারে প্রায় দেড় মাস ধরে সৈয়দপুর বানিজ্য মেলার প্রবেশ টিকিটের অবৈধ লটারী বিক্রি চলছে। প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করতেছে । এতে এলাকায় আইন শৃংখলার অবনতি ঘটছে ব্যাপক।
সরেজমিনে জানা গেছে,গত শনিবার দুপুরে ডোমার -চিলাহাটি সড়কে শালকি
ব্রীজ এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোতে অবৈধ লটারী বিক্রি করছেন মোশাররফ হোসেন (৪৫)। তার সাথে কথা বললে তিনি
জানান,আমার বাড়ী জয়পুরহাট। আমি তিন দিন ধরে লটারী বিক্রি করছি।
তবে লটারী বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪২
দিন ধরে। প্রতি দিন এক হাজার লটারী বিক্রি করছি।কেউ বিক্রি করছে দুই হাজার। ডোমারে ৪২ জন ৪২ টি ঢোল নিয়ে টিকিট বিক্রি চলছে। প্রতিটি লটারী ২০ টাকা করে।প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত লটারী বিক্রি করি। আমি ৯ শত টাকা পাই দিন প্রতি।প্রতিদিন রাতে সাড়ে দশটায় লটারী হয়। গতকাল সোমবার বিভিন্ন পুরস্কার আছে।
লটারী ক্রয়কারী ডোমার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের প্রদীপ রায়(২৫) বলেন, একটি লটারি কিনেছি। ভাগ্য যাচাই করছি। যদি লাগে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক সাংবাদিক বলেন, পাঁচ জন সাংবাদিক এটার দেখভাল করছে।
নীলফামারী জেলা এনসিপির সদস্য ও আইনজীবী মো; আসিফ ইকবাল মাহমুদ বলেন,কিছুদিন আগে ডোমার উপজেলা পরিষদের সামনে বানিজ্য মেলার লটারী বিক্রি করছিল। আমি ব্যাটারি চালিত অটো আটকে ইউএনওকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি থানায় বলে দিচ্ছি ওরা ব্যবস্থা নেবে। থানায় ফোন দিলে ওসি জানান, ইউএনও ফোন দেয়নি। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিলেও এক ঘন্টা কেটে গেলেও নীলফামারীর ও ডোমার প্রসাশন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এসপিকে বলেও কোন কাজ হয়নি।
ডোমার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন সুমন জানান,ডোমারে আইন শৃংখলার ব্যাপক অবনতি হয়েছে।বিশেষ করে মাদক ও জুয়া। এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
অবৈধ লটারির বিষয়ে ডোমার বাজার মসজিদের ইমাম ও মুফতি মাহমুদ বিন আলম জানান, এটা ইসলামে হারাম, গত (শুক্রবার) জুম্মায় এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছি।
ডোমার দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব জানান, হাজার হাজার ছাত্র -জনতার জীবনের বিনিময়ে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করলাম, এ সব দূনীর্তি দেখার জন্য। জনগন সর্বসান্ত হচ্ছে। আগামী কাল আমি রংপুর দুদকে জানাব।
এ ব্যপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী জানান,যারা বিক্রি করছে, তাদের ধরে জেল দেওয়া হচ্ছে।কিন্তু অন্য নতুন লোক এসে আবার বিক্রি করছে। তারা অশিক্ষিত ও গরীব মানুষ।নীলফামারী জেলা আইন শৃংখলার মিটিং এ এই বিষয়ে জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। মুল জায়গায় না ধরলে এটার সমাধান হবে না ।
এ ব্যাপারে ডোমারে লটারীর দায়ীত্বে থাকা ম্যানজার মমতা জানান,অনুমতি না থাকলে কি লটারী বিক্রি করছি আমাদের অনুমতি দিয়েছে। কে অনুমতি দিয়েছে এই বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানাননি।