নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে দেয়া ভিজিএফের চাল পাচারের সময় জব্দ করেছে স্থানীয়রা। দুইটি অটোরিক্সায় করে পাচারকালে এসকল চাল জব্দ হলেও আটক হয়নি চাল বহনকারী বা পাচারকারী কেউ। শনিবার সকালে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার এসব চাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১৬ বস্তা চাল জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণের লক্ষে দুর্গাপুর উপজেলার ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন ২২০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়। গত সোমবার (২৪ মার্চ) ৩ হাজার ৫২২ জন দুস্থ ও গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম করা হয়। এই চাল পাচারের সাথে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ পরিষদের চৌকিদাররা জড়িত রয়েছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
চাল আটকজারী জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, ফরজরের নামাজ পড়ে পরিষদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি পরিষদ থেকে দুইটি অটো করে চাল নিয়ে বের হচ্ছে তখন আমাদের সন্দেহ হয়। চুরির চাল না হলে অন্ধকারে নিবে কেন? স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, যেদিন চাল বিতরণ করা হয়েছে ওইদিন কার্ড নিয়ে আসলেও অনেক অসহায় মানুষদের চাল দেওয়া হয়নি, পরে তারা চাল ছাড়াই ফিরে গেছে। তাহলে এখন চাল এলো কোথা থেকে। তবে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুকছেদুল হক মীর জানান, চালগুলো জব্দ হয়েছে শুনেছি কিন্তু চাল গুলো গ্রাম পুলিশের পারিশ্রমিকের চাল।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।