খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন মজুত থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে “তেল নেই” বলে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিশেষ কিছু ক্রেতার কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ একাধিক স্থানীয়দের। এমতাবস্থায় মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বেড়েই চলছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদর, জিরো পয়েন্ট, সড়ল বাজার, মানিক তলা, নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, হাবিব নগড়, কপিলমুনি, হরিঢালী, বাঁকা, রাড়ুলী, চাঁদ খালী, গড়ইখালী, সোলাদানা, চারবান্দাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার, সড়কের মোড় ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা খুচরা জ্বালানী তেলের দোকান গুলোতে বোতল ও গ্যালনে পেট্রোল ও অকটেন মজুত রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতারা তেল কিনতে গেলে দোকানিরা “তেল নেই” বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে সু কৌশলে পরিচিত বা বিশেষ ক্রেতারা গেলে একই দোকান থেকে চরা মূল্যে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক, মিথুন , ফিরোজ, আসাদ, কামাল, হাবিবসহ আরো অনেকেই জানান, তারা অনেক সময় একাধিক দোকানে ঘুরেও তেল পান না। কিন্তু কিছু সময় পর দেখা যায় একই দোকানে অন্যদের কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এদিকে এ উপজেলায় হাজার হাজার মোটরসাইকেল থাকলেও বর্তমানে রাস্তায় মোটরসাইকেলের পরিমাণ শতাধিকে এসে পৌঁছানোর উপক্রম হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তা গুলো মোটরসাইকেল শুন্য হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় অধিকাংশ খুচরা জ্বালানি তেলের দোকানগুলো কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। নিয়ম অনুযায়ী দাহ্য পদার্থ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও অনেক দোকানি তা মানছেন না। লাইসেন্স বিহীন এসব দোকানে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন মজুত রাখা হচ্ছে, যা একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকটের সুযোগ তৈরি করছে।
উপজেলা বাস মালিক শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, খুলনায় যাওয়া ও আসার সময় আমরা মাত্র ১০ লিটার করে তেল পাচ্ছি।
এদিকে সচেতন মহল বলেছেন, তেল মজুত থাকার পরও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি না করে বেশি দামে বিক্রি করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে মোটর সাইকেল চালক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে জ্বালানী তেল ব্লাকে কিনতে হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় লাইসেন্সবিহীন খুচরা জ্বালানি ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কৃত্রিম সংকট বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি তেল পাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলাবাসী প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, খুচরা দোকানে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে লাইসেন্স যাচাই, মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী জানান, জ্বালানী তেলের সংকট রয়েছে। এছাড়াও শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কালে স্থানীয় আগড়ঘাটা বাজারে ২জন তেল বিক্রেতাকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং সমস্ত খুচরা তেল বিক্রিত দোকানগুলো প্রতিনিয়ত খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন সাপ্লাইকৃত তেল সকলের মাঝে কমবেশি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।