1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

পার্বত্য মন্ত্রী পদে দীপেনকে পুনর্বহালের দাবীতে রাঙামাটিতেও মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

এস চাঙমা সত্যজিৎ 
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এর পদত্যাগ: অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের জের, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো গঠনে বিলম্বিত হওয়ায় মন্ত্রী পদ হারিয়েছেন দীপেন দেওয়ান এমপি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি পদত্যাগ করেছেন গত ১ জুন ২০২৬ সোমবার। তাঁকে ওই পদে পূনর্বহালের দাবীতে এখনো মানববন্ধন করছেন তাঁর জেলার বাসিন্দারা। গতকাল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কের পাশে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী এবং রাঙামাটি পার্বত্য ২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পূণরায় মন্ত্রী পদে নিয়োগ প্রদানের দাবীতে এখনো রাঙামাটি জেলা ও উপজেলায় সাধারণ মানুষের নাগরিক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে নানান বিষয় উঠে এসেছে আলোচনায়। তবে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) পরিষদ গঠনে বিলম্ব, বিএনপির ভেতরকার দ্বন্দ্ব এবং এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে চাপে পড়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন দীপেন দেওয়ান এমপি।
মন্ত্রির দায়িত্ত্ব পাওয়ার তিন মাস পর গত ১ জুন দীপেন দেওয়ান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। এরপর তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানান আলোচনা শুরু হয়। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠনে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের তেমন চাপের মুখে পড়েননি তিনি। তবে সংকট শুরু হয় রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি নিয়ে।
বিএনপির রাঙামাটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপেন দেওয়ানের ভায়রা মানস মুকুল চাকমা এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সুবাস চাকমা রাঙামাটি চেয়ারম্যান পদের জন্য জোর লবিং শুরু করেন। দীর্ঘদিন এই দুই নেতা দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠজন। এই দুজনের অবদান অস্বীকার করা একদিকে যেমন অসম্ভব ছিল, অন্যদিকে পরিষদ চালানোর সক্ষমতাও তাঁদের ছিল না। এই কারণে তিনি তাঁদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে চাননি। তবে এ নিয়ে চাপের মুখে পড়েন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল, দীর্ঘদিন যাঁরা দলের হাল ধরে রেখেছেন, তাঁদের যেন এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করা হয়। সেই হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু। কিন্তু দীপুর সঙ্গে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সম্পর্ক আগে থেকে টানাপোড়েন ছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, আবার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান দীপন তালুকদার দীপুর আপন বড় ভাই কাজল তালুকদার। আবারও একই পরিবার থেকে দীপন তালুকদারকে পরিষদের চেয়ারম্যান করা হলে তা ‘পরিবারতন্ত্রকে’ সম্প্রসারণ করবে—এই আশঙ্কায় দীপেন দেওয়ান বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন। এতে দীপন তালুকদারের রোষানলে পড়েন তিনি। এই অবস্থায় তিনি বিএনপির সহ-উপজাতিবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ানকে চেয়ারম্যান করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি স্বীকার করে মনীষ দেওয়ান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, তাঁর নাম প্রস্তাব করায় দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কোন্দল
এদিকে দীপন তালুকদার দীপুর সঙ্গে বিরোধের জেরে পার্বত্য এলাকাজুড়ে বিএনপির একটি বলয় সৃষ্টি হয়। বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি বিএনপির একটি পক্ষও দীপু গ্রুপের ছায়ায় আসে। এ ছাড়া দীপন তালুকদার দীপুর সঙ্গে এই গ্রুপে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনসহ জেলা-উপজেলার বেশ কিছু নেতা। এ ছাড়া তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এক প্রতিমন্ত্রীও। এই বিবাদের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায় রাঙামাটির বৈসাবী উৎসবে। স্থানীয় শাহ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে অতিথি হিসেবে নিয়ে আসে দীপন তালুকদার দীপুর গ্রুপ। ওই দিন সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বান্দরবানের সাংগ্রাই উৎসবে অংশ গ্রহণ করতে চলে যান। এ নিয়ে মীর হেলালের কাছে অভিযোগও করেন দীপুসহ তাঁর নেতা-কর্মীরা।
দলীয় সূত্র বলছে, দলের ভেতরের বিরোধের জেরে তিন জেলা পরিষদ গঠনের ব্যর্থতা সামনে এনে দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘কান ভারী’ করে দীপন তালুকদার দীপু গ্রুপ। এতে আরও চাপে পড়েন দীপেন দেওয়ান। পরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন তিনি।
যদিও দীপন তালুকদার দীপু বলেন, কোন্দলের বিষয়টি সঠিক নয়। সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান নির্বাচনের আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। দলীয়ভাবে চাপে থাকার বিষয়টিও কোনো সময় আমাদের সঙ্গে উনি শেয়ার করেননি।
তবে দীপেন দেওয়ান জানিয়েছিলেন, বিগত দিনের দুর্নাম ঘুচিয়ে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করতে চেয়েছিলেন তিনি। এই কারণে তিনি কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন। কিন্তু পদে পদে রাজনৈতিক বাধা এবং চাপের মুখে তিনি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, কোনো জনগোষ্ঠী যেন বঞ্চিত না হয়। কারও সাথে যেন বৈষম্য না হয়। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছিলেন।
রাঙামাটির নাগরিক সমাজের আয়োজিত মানববন্ধনে দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবীতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে সড়কে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ‘রাঙামাটির নাগরিক সমাজ’। এ অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিত্ত্বরা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, এনজিও কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার এবং সাধারণ জনগণ। এছাড়াও গত রবিবার খাগড়াছড়ির নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এমপি দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী পদে পূনর্বহালের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com