রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় জুয়া ও মাদকের রমরমা কারবার এখন স্থানীয় তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎকে গ্রাস করছে। দিনমজুর থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবকরা এই ধ্বংসাত্মক আসরে জড়িয়ে পড়লেও, এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ আসরগুলো এখন এতটাই প্রকাশ্যে ও অবাধে চলছে যে, এর পেছনে কোনো শক্তিশালী চক্রের ছত্রছায়া রয়েছে; এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি কোনো স্থানীয় প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক ব্যক্তির নীরব সমর্থন না থাকত, তবে এভাবে দিনের পর দিন আইনকে উপেক্ষা করে মাদকের বেচাকেনা ও জুয়ার আখড়া চালানো সম্ভব হতো না। এই সহজলভ্যতার শিকার হয়ে কম বয়সী তরুণরাও দ্রুত নেশার ফাঁদে পা দিচ্ছে এবং জুয়ার নেশায় বহু পরিবার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, অনেকে ঋণের বোঝা নিয়ে সর্বস্বান্ত। এই পরিস্থিতি যুব সমাজের সৃজনশীলতা এবং শিক্ষাজীবনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; অথচ প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধ জানানোর পরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক মহল। তাঁরা মনে করছেন, প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা বা নজরদারির অভাবের কারণেই এই অপরাধ চক্র এত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর হাতে সব অবৈধ আস্তানা ভেঙে দেওয়া হোক, নতুবা পীরগঞ্জের তারুণ্য এই করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে না।