সোমবার ৯ মার্চ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু শৈলকূপা উপজেলার মাঠগুলোতে এখন আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনের ধুম লেগেছে। বসন্তের তপ্ত হাওয়ায় মাঠজুড়ে ফলন দেখে কৃষকের মনে কিছুটা আনন্দ থাকলেও, সেই আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছে বর্তমান বাজার দর। হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি বিনিয়োগ করে পেঁয়াজ উৎপাদন করলেও এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা স্থানীয় কৃষকরা।
এক সময় যেসব জমিতে খুব একটা ফসল হতো না, গত দুই দশকে সেসব জমিতে পেঁয়াজ ও রসুন চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছিলেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। বানিজ্যিক ভিত্তিতে এখন হাজার হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। কিন্তু সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভালো ফলন সত্ত্বেও তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
কৃষকদের দেয়া তথ্যমতে, বীজ কেনা, বীজতলা তৈরি, সার-কীটনাশক, সেচ, নিড়ানি এবং শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজে উৎপাদন খরচ পড়ছে ১৫০০ টাকারও বেশি। অথচ স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি মণে কৃষকের প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ অঞ্চলের অধিকাংশ চাষী এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বা দাদন নিয়ে চাষাবাদ করেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে একদিকে ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে সামনে রমজান ও ঈদুল ফিতর। পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলেই এই দরপতন হয়েছে বলে দাবি চাষীদের।
কৃষক ভাইদের দাবি, এভাবে লোকসান হতে থাকলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তারা এই সংকট উত্তরণে সরাসরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, অনেক কৃষকই আগামীতে এই অর্থকরী ফসল চাষে বিমুখ হয়ে পড়বেন।