1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার! লালমোহনে দুই ব্যবসায়ীর উপর হামলা ও টাকা ছিনতাইর অভিযোগ

বগুড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে খেজুরের দাম

ফাহিম মাহাদী
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

রমজান মাস এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই বগুড়ায় খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক ও করহার বৃদ্ধি, টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং ঋণপত্র জটিলতার কারণে এ বছর খেজুরের দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণে খেজুরের বাজারের অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ায় খেজুরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে ইরাকি খেজুর কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১০০ টাকা। দুবাইয়ের ইরাকি জাহিদি জাতের খেজুর ১০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা। দাবাস ও লুলু জাতের খেজুর ১০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা, যা গত বছরে ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা। মরিয়ম জাতের খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। মজদুল খেজুর ৫ কেজি ওজনের কার্টুন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়াও সৌদি আরবের মাসরুক ও সাফাই জাতের খেজুর পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের ফরিদা খেজুর ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এবার বেড়ে ৪৫০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুর কিনতে আসা মাহাবুব হাসান সোহাগ বলেন, ‘রমজানে খেজুর রাখতেই হয়, কিন্তু সেই খেজুরের দাম আমাদের মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা সবাই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি।’
বগুড়া সপ্তপদী এলাকার খেজুর বিক্রেতা মতিনুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের রমজানের পরই ধীরে ধীরে দাম বাড়তে থাকে। দুই বছরের ব্যবধানে কিছু খেজুরের দাম এখন দ্বিগুণেরও বেশি। প্রতি মাসেই দাম বাড়ছে। আমরা যেমন দামে কিনি খুচরায় তেমন দামেই বিক্রি করি।’
খেজুর আমদানিকারক মেসার্স এমএ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মনসুর আলী বলেন, ‘খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর খেজুর আমদানিতে দু-তিনগুণ ব্যয় বেশি হচ্ছে। লোকজন কেনাও কমিয়ে দিয়েছে। তবে যে খেজুর আছে তাতে রমজানে বগুড়ায় কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রমজানকে ঘিরে কেউ যদি খেজুরের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং কার্যক্রমও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com