বিয়ের আনন্দে ভরে ওঠার কথা ছিল যে বাড়ি, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম। নববধূকে ঘিরে নতুন সংসারের স্বপ্ন দেখছিল পরিবার। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার নির্মমতায় মুহূর্তেই সেই আনন্দ রূপ নেয় গভীর শোকে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোংলা পৌর বিএনপির নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ ১৩ জন নিহত হন। দুর্ঘটনাটি ঘটে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বরযাত্রী বহনকারী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাব্বিরের বড় ভাই আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা, তাদের ছেলে আবু তালহা আলিফ, রায়হান রহমান, সাব্বিরের বোন ঐশী, তার ছেলে সামি, পুতুল, আনোয়ারা বেগম, হেরাম, রশিদা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাইমসহ আরও কয়েকজন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।
নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু)-এর মামা আবু তাহের জানান, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মার্জিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর নবদম্পতি ও স্বজনদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি মোংলার শেহালাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে কনে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানীসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জানান, মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল কয়রায়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।