গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের ঐতিহাসিক দেবদারু তলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ-এর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহাসচিবের আগমনে অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়—ধানের শীষকে বিজয়ী করা তাদের দায়িত্ব, আর বিএনপি সরকার গঠন করলে নির্বাচিত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান তারা। এ সময় মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।
নির্বাচনে বোদা-দেবীগঞ্জের ভোটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে বিপুল ভোটে ফরহাদ হোসেন আজাদকে জয়যুক্ত করেন। বিশেষ করে এ অঞ্চলের সনাতনী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন তার পক্ষে ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সারাদেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পথে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বোদা-দেবীগঞ্জে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—মহাসচিবের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে কি না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে রাতভর গণনা অনুষ্ঠিত হয়। গভীর রাত প্রায় ২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সফিউল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৪ ভোট। জাসদ মনোনীত প্রার্থী এমরান আল আমিন (কাস্তে প্রতীক) পেয়েছেন ৯৫৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত কামরুল হাসান (হাতপাখা প্রতীক) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৯১ ভোট। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত দেলোয়ার হোসেন (একতারা প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৫২ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত লুৎফর রহমান রিপন (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন ২ হাজার ১৫২ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৫ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ০৮৮। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৩। বাতিল ভোট ২৯ হাজার ৩৪৪ এবং মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৩০৭।
স্থানীয়দের মতে, ফরহাদ হোসেন আজাদ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তাঁর ভূমিকা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় অবস্থান তাকে এলাকায় গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলে পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সমর্থকরা। তাদের প্রত্যাশা, বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে ফরহাদ হোসেন আজাদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে