রাজবাড়ীর পাংশায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আফিয়ানা জান্নাত মুমু (২০) নামের এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাংশা পৌর এলাকার রেললাইনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আফিয়ানা জান্নাত মুমু ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার আব্দুল হাইয়ের বড় মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরআপরা গ্রামের জামাল চৌধুরীর ছেলে আকাশ চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুমুর। তবে উভয় পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় গত এপ্রিল মাসে কুষ্টিয়া জজকোর্টে গিয়ে আকাশকে আইনি মতে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকে তিনি স্বামী আকাশের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পাংশা পৌর এলাকার রেললাইনে যান। এ সময় বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন তিনি। স্থানীয়রা মুমুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পূর্বে মুমু একটি খাতায় তার পরিবার ও বাবা-মায়ের উদ্দেশে আবেগঘন চিরকুট লিখে গেছেন। সেখানে তিনি বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা, অনুতাপ ও নিজের মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




