চট্টগ্রামে লোহাগাড়ায় অর্ধশত বোতল ফেনসিডিলসহ পুলিশের ৩ সোর্স ছাত্র-জনতার হাতে আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চুনতি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টিম তাদের হেফাজতে নিয়ে থানায় সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ পুরাতন বিওসি এলাকার মৃত হাছি মিয়ার ছেলে রমিজ উদ্দিন (৩৫), একই উপজেলার সদর ই ইউনিয়নের হোসেন আলী মাতব্বর বাড়ির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে নাজিম উদ্দিন (৪০) এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামের মৃত শহিদ উল্লাহর ছেলে তাজুল ইসলাম (৪২)। স্থানীয় জোবাইর ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, থানা থেকে জব্দকৃত মাদক পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার আজিজ নগরে পাচার করা হবে জানতে পারি। খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিকেল ৪টা থেকে চুনতি বাজারে পাহারা দেওয়া শুরু করে। রাত আনুমানিক দেড়টায় চকলেট কালারের একটি প্রাইভেটকার চুনতি বাজারে পৌঁছালে স্থানীয়রা ঘিরে ফেলে। পরে ফেসবুক লাইভে গিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করা হয়। এসময় অর্ধশত ফেনসিডিল বোতলসহ তিনজনকে আটক করে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লোহাগাড়া সেনা ক্যাম্পের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃতদের ক্যাম্পে নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে থানায় হস্তান্তর করে। জোবাইর ইসলাম আরও বলেন, চকলেট কালারের গাড়িটি আটক করা হলেও পেছনে থাকা সাদা কালারের গাড়িটি আটকাতে পারেনি। ওই গাড়িতে লোহাগাড়া থানার এসআই কামাল উদ্দিন ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানেও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ছিল বলে আমরা জেনেছি । আটক রমিজ উদ্দিন স্বীকার করেন তারা তিনজন পুলিশের সোর্স। তিনি বলেন, এসআই কামাল তাদের জব্দকৃত ফেনসিডিলগুলো দিয়েছেন। এসব ফেনসিডিল পাশের পার্বত্য লামা উপজেলার আজিজ নগরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে এসআই কামাল উদ্দিনকে বার বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এব্যাপারে
লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল আলম খান বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে পুলিশ সদস্য জড়িত কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা তা ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।