বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জমির দালাল হিসেবে পরিচিত মথুরা পাড়ার সাইফুল হাসানের কাছে ২৩ লক্ষ টাকা পাওনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও সেই অর্থ ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপে স্ট্রোক করে মারা যান মমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগের বিবরণঃ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সাইফুল হাসানের কাছে মোট ২৩ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমি হস্তান্তর কিংবা টাকা ফেরতের কোনোটিই সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ।ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করছে, টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় মমিনুল ইসলাম বারবার যোগাযোগ করলেও প্রতিবারই তাকে নানা অজুহাতে ঘুরানো হয়েছে। এতে তিনি চরম মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।পরিবারের দাবি ও ক্ষোভ মমিনুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানান, এই আর্থিক ক্ষতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, সাইফুল হাসান এখনো পর্যন্ত ২৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো দায় স্বীকারও করছেন না।পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছি। অন্তত যেন দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পাওনা টাকা ফেরত নিশ্চিত করা হয়।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াঃএ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত লেনদেনে স্বচ্ছতা ও লিখিত চুক্তির অভাবে প্রায়ই এমন জটিলতা তৈরি হয়। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণঃ এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।