লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দেড় বছর বয়সী শিশু কানিজ ফাতেমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন প্রতিবেশীকে নির্দোষ দাবি করেছে তাদের পরিবার। জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাদের ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি পত্রিকা হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত তোফায়েল আহমেদ (৬০), তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম ও পুত্রবধূ নিশু আক্তারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তোফায়েল আহমেদের মেয়ে লাকি বেগম।
লিখিত বক্তব্যে লাকি বেগম বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর উপজেলার চরমোহনা গ্রামের কাঞ্চন হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌস মেরিন দম্পতির কন্যা কানিজ ফাতেমা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দিনই পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তোফায়েল আহমেদকে আটক করে এবং পরে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন শুক্রবার একই মামলায় তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম ও পুত্রবধূ নিশু আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নিখোঁজের পর পুলিশসহ একাধিকবার তোফায়েল আহমেদের বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক তল্লাশি করা হলেও তখন সেখানে কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে শনিবার সন্ধ্যায় শিশুটির দাদি কোহিনুর বেগম একজন মেথর ডেকে এনে ওই একই সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছরের বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সাজানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শনিবার রাত ৯টার দিকে তোফায়েল আহমেদের বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশু কানিজ ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।