নওগাঁ জেলার একটি অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী, আয়তনে বৃহত্তম থানা নিয়ামতপুর, যা ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ কলোনিয়াল পিরিয়ডে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই অঞ্চলের নিয়ামতপুর নামকরণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত মিথ রয়েছে। প্রাচীনকালে বরেন্দ্র অঞ্চলের এই জনপদটি মূলত উঁচু জমি বা ‘ডাঙ্গা’ এলাকা ছিল। স্থানীয় লোকমুখে এটি ‘হোকমাডাঙ্গা’ (Hokmadanga) গ্রাম হিসেবে পরিচিত ছিল।
নিয়ামতপুর নামকরণের ইতিহাস এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত সোর্স পর্যালোচনা করে পাওয়া যায় যে গৌড় বাংলার রাজধানী থাকাকালীন সময়ে সেখানে মহামারী দেখা দিলে সেই এলাকা হতে বহু লোক ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায় । জনশ্রুতি আছে যে সেই সময় একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে এসে বসবাস আরম্ভ করে ।
কথিত আছে যে,জনৈক ধর্মপ্রাণ দরবেশ ব্যক্তি এই হোকমাডাংগায় আগমণ করলে নিয়ামতপুরের বর্তমান চৌধুরী এবং দেওয়ান বংশের আদিপুরুষগণ নজর নিয়ামত ও বিভিন খাদ্য সামগ্রী তার সন্মার্থে তৌহফা হিসেবে পেশ করেন। রসনা সামগ্রী দেখে তিনি অত্যন্ত খুশী হন এবং বলেন যে,যেখানে আল্লহপাক এত নিয়ামত দান করেছেন সেই স্থানের নাম সুন্দর হওয়া দরকার। তাই তিনি হোকমাডাংগার পরিবর্তে স্থানটির নাম করণ করেন নিয়ামতপুর ।
এটি প্রশাসনিক থানা হিসেবে দীর্ঘ সময় পরিচালিত হওয়ার পর ১৯৮৩ সালে নিয়ামতপুর থানা এলাকাকে কেন্দ্র করে নিয়ামতপুর উপজেলা গঠিত হয় । ৪৪৯.১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলাটি ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, এবং প্রায় তিন লক্ষ লোকের বসবাস। নিয়ামতপুর একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল, যেখানে প্রধান ফসল ধান এবং উপজেলার অর্থনীতি মূলত ধান ভিত্তিক।
নওগাঁ জেলার আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম উপজেলা হলো নিয়ামতপুর। নিয়ামতপুর থানা এলাকার অপরাধ চিত্রের মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ, নারী ও শিশু সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক সমস্যা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। এই থানা এলাকার অপরাধের মূলে রয়েছে মানুষের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। ভূমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই ফৌজদারি অপরাধের জন্ম হচ্ছে। নিয়ামতপুর থানা পুলিশ এই এলাকার অপরাধ দমন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সর্বাত্মক সক্রিয় রয়েছে।