1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধা-১ আসনে ফলাফল বাতিল ও পুনরায় ভোটের দাবি বিএনপি বগুড়ার গাবতলীতে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক ট্রাকমালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে নবনির্বাচিত এমপির সংবাদ সম্মেলন নবীগঞ্জ–বাহুবলে সিমি কিবরিয়ার উত্থান, রেজা কিবরিয়ার বিজয়ে দৃশ্যমান প্রভাব প্রধাম উপদেষ্টা মুসলিম উম্মাহের বাণী সাংবাদিক সংস্থা কর্তৃক (সাওপ) চূরি মাদারীপুর নেত্তিত্ব নতুন মুখ ফুলবাড়ী২৯ বিজিবি কর্তৃক ১,৪৪,৯০০/- টাকা যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ভারতীয় ইস্কফ সিরাপ আটক নওগাঁ-১ আসনের কেন্দ্রে ভোট কেলেঙ্কারি? ভোটারের চেয়ে ৮৩৬ ভোট বেশি দেখানোর অভিযোগ টাঙ্গাইল-৬ আসনএমপি হিসেবে নয় নিবার্চনি এলাকায় সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসে তল্লাশি,আটক ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি

‘‘প্রতিহিংসা নয়, ইনসাফ’’ বিজয় ভাষণে শান্তির বার্তা জনাব তারেক রহমানের।

কে. এম. নূহ্ পারভেজ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পালাবদলের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২১১টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। তাদের মিত্রদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ১টি এবং গণসংহতি আন্দোলন ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জোটের বাইরে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র ১১-দলীয় জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন শক্তিই সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দলীয় চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিজয়কে “বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেন, কোনো ধরনের প্রতিহিংসা, সহিংসতা বা বিজয় মিছিলের নামে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতোমধ্যে হাজারো কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকবে এবং সরকারি বা বিরোধী—সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে নির্বাচন পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত ছিল না। ময়মনসিংহ-১ আসনে পরাজিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে। রাজশাহী-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। বেশ কয়েকটি আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে পুনর্গণনার দাবি তুলেছেন। বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, সব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে এবং কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান এমনটাই দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র বা গৃহায়নে মির্জা আব্বাস, এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ –এ ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, দরিদ্র পরিবারের জন্য নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ১ মিলিয়ন নতুন আইসিটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাও ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এমন সাংবিধানিক সংস্কার ও উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের প্রস্তাব রাষ্ট্র কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা প্রতিশোধমূলক ঘটনা বরদাশত করা হবে না। বিভিন্ন জেলায় বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে, তেমনি বাড়ায় জবাবদিহির দায়ও। এখন দেখার বিষয়, বিজয়ের এই জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নতুন সরকার কত দ্রুত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে এবং প্রতিশ্রুত “ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র” গঠনের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com