উত্তর বঙ্গের প্রবেশদ্বার ঈশ্বরদীসহ উত্তরের জেলাগুলোতে ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে শীত। সেই সাথে ফাল্গুনের প্রথম প্রান্তিকেই প্রকৃতি মিলছে বসন্তের আগমনী বার্তা । শীতের প্রকোপ কমতেই প্রকৃতির রূপে এসেছে পরিবর্তন। গাছে গাছে ফুটে উঠেছে মুকুল, যা ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে জানাচ্ছেন কৃষি ও প্রকৃতিবিদরা।
শুধু আম নয় বরং আমের পাশাপাশি কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের গাছের শাখা মুকুলে ছেয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরতলির অলিগলিতে দেখা যাচ্ছে একি দৃশ্যপট। ভোরের নরম রোদ ও হালকা বাতাসে মুকুলের সুবাসে মৌমাছি ও প্রজাপতির আনাগোনাও বেড়েছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যে বিমোহিত এখন সবাই। মুকুলের সমাহার কৃষকদের মাঝেও আশার সঞ্চার করেছে। তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, তবে বসন্ত ও পরবর্তী সময়ে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা তাপমাত্রার বড় ওঠানামা হলে ক্ষতির আশঙ্কাও থেকে যায়। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান তাপমাত্রা ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতি মুকুল আসার জন্য সহায়ক। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।
সব মিলিয়ে উত্তরের জনপদে বসন্তের আগমনে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে উঠছে। মুকুলে ভরা গাছপালা জানিয়ে দিচ্ছে আর বেশি দেরি নয়, বসন্ত এখন দোরগোড়ায়।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যেই মুকুলে ভরে গেছে আমগাছ। আমের মুকুল ও ফল ঝরা রোধে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক, ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। এবছর আমের ফলন অনেক বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।