উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ, অথচ কলারোয়ার ৯ নম্বর হেলাতলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেড়াঘাটবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাস্তার চিত্র যেন এক চরম উপহাস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উপজেলা উন্নয়ন বাজেটে যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও, চেড়াঘাটের এই সড়কে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ভাগাভাগি করে মাঝপথে কাজ ফেলে ঠিকাদার গোষ্ঠী উধাও হওয়ার অভিযোগে এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ।
বাজেটের খতিয়ান ও বরাদ্দের বড় ফাঁকি
কলারোয়া উপজেলা পরিষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য মোট ৯৪ লক্ষ টাকার প্রাক্কলিত উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করেছে। মোট ৯১টি ছোট-বড় প্রকল্পের মাধ্যমে এই বাজেট বাস্তবায়িত হচ্ছে। যার মধ্যে:
যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো: ৬১টি প্রকল্পে ৬৮,০০,০০০ টাকা (মোট বাজেটের প্রায় ৭২%)।
শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি: ২৮টি প্রকল্পে ২৪,০০,০০০ টাকা।
কৃষি ও ক্ষুদ্র সেচ: ০২টি প্রকল্পে ২,০০,০০০ টাকা।
বাজেটের সিংহভাগই রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ থাকলেও, চেড়াঘাটের চিত্র বলছে উন্নয়নের নামে চলছে সরকারি অর্থের হরিলুট।
অনিয়মের আবর্তে চেড়াঘাট সড়ক
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেড়াঘাটের এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও শুরুতেই বাধে বিপত্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী মাটি, বালু ও উন্নত মানের ইটের খোয়া ব্যবহার না করে নামমাত্র কাজ করে দায় সারছিল। এমনকি কাজের গুণগত মান এতটাই নিম্ন যে, নির্মাণাধীন অবস্থাতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও ধস দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও স্থানীয় কিছু অসাধু নেতার যোগসাজশ নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি বরাদ্দের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়ে কাজ শেষ না করেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে ঠিকাদার গোষ্ঠী। ফলে অসমাপ্ত রাস্তার কারণে জনগণের দুর্ভোগ কমার বদলে আরও কয়েকগুণ বেড়েছে।
আর্তনাদ ও গণদাবি
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর কাদা-মাটির রাস্তায় কষ্ট করে আসছি। একটা টেকসই পাকা রাস্তার স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। আমরা কোনো ভাগ চাই না, আমরা শুধু আমাদের প্রাপ্য ভালো রাস্তাটি চাই।”
প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন
রাস্তার কাজ নিয়ে সৃষ্ট এই অচলাবস্থা নিরসনে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর দাবি—অবিলম্বে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করে এবং পলাতক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি সিডিউল মোতাবেক কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি ছাড়া এই নজিরবিহীন লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এখন দেখার বিষয়, জনস্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন কলারোয়ার এই অবহেলিত চেড়াঘাটবাসী।