নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই তরুণীর কর্মকাণ্ডে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের মৃত জাফর আলীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার পিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছেন। তিনি ফেসবুকে “তানহাস পিয়া” ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবী ও সহজ-সরল তরুণদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন ও চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও সুজন মিয়াসহ পাশের চরপাড়া ও ঘাগড়া এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, পিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে কখনো অনার্সের শিক্ষার্থী, আবার কখনো মাদ্রাসা পাশ হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল সিমটি জনৈক কলেজ শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী সুমন ও রাজ্জাক জানান, “পিয়া কৌশলে সরকারি চাকরিজীবীদের টার্গেট করেন। এরপর প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের নাম করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। এতে অনেক তরুণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও চরম মানহানির শিকার হচ্ছেন।” স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েক মাস আগে নেত্রকোনা পৌর এলাকার পারলাম মোড়ে এক সেনা সদস্যের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে গিয়ে অবস্থান নেন পিয়া। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এলাকায় তদন্ত করতেও দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুমাইয়া আক্তার পিয়া অভিযোগের একাংশ স্বীকার করে বলেন, “ওই সেনা সদস্যের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তবে বিয়ে হয়নি। পরে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে সেখান থেকে নিয়ে আসে।” তবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিয়ার এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অতি দ্রুত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। একই সাথে ওই তরুণীর অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।