নিজ কালিকাপুর সীমান্তে পরশুরাম থানা পুলিশের অভিযান; সরোয়ার ও সহযোগী এমরানের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী নিজ কালিকাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধসহ দুইজনকে আটক করেছে পরশুরাম থানা পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সরোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগী এমরান। শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ভারতীয় ঔষধ ও অন্যান্য পণ্য চোরাচালানের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
ওই চক্রের সদস্যরা সীমান্তের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে অবৈধভাবে ঔষধ বাংলাদেশে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরশুরাম থানা পুলিশ কয়েকদিন ধরে নজরদারি বাড়িয়ে দেয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরশুরাম থানা পুলিশের একটি টিম নিজ কালিকাপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে সরোয়ার ও এমরানকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ ঔষধ উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, উদ্ধার করা ঔষধের মধ্যে বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশে অনুমোদনহীনভাবে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঔষধ সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় ঔষধ, প্রসাধনী, শাড়ি, মসলা ও বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে আনার ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে এসব চক্রের কার্যক্রম কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
পরশুরাম থানা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে পুলিশকে দ্রুত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
পরশুরাম থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ঔষধসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
উদ্ধার করা ঔষধগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয় করে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।