পার্বত্য এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার প্রয়াসে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বাকলাই পাড়া সাবজোন কতৃক পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সহায়তা প্রধান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাকলাই পাড়া সাবজোনের অন্তর্গত কংলাই পাড়ার উপাসনালয়ের জন্য ব্যাটারি, বুলুম পাড়ার উপাসনালয়ের জন্য সোলার প্যানেল (ব্যাটারি আগে প্রদান করা হয়েছে) এবং কাইতন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সোলার প্যানেল, সোলার ব্যাটারি , সোলার ফ্যান এর সোলার লাইট প্রদান করা হয়। দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স – এর অধিনায়কের পক্ষ হতে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাফকাত মুবাররাত চৌধুরী।
১৬ইস্ট বেঙ্গল এর অধীনস্থ এলাকায় পাড়াবাসীদের সকল প্রকার নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করেন সেনা সাবজোন কমান্ডার। এছাড়াও এলাকাবাসীর নিরাপদ জীবনযাপনে নিয়মিত সেনা টহল জারী রয়েছে। পাহাড়ি- দুর্গম এলাকায় মানবিক সহায়তা ও সেনা নিরাপত্তা পেয়ে কাইতন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল ত্রিপুরা বলেন,স্কুলে ফ্যানের ব্যবস্থা হওয়ায় শিক্ষক শিক্ষার্থী গ্রীষ্মকালের গরমে শান্তি আরামদায়কভাবে পাঠদান করতে পারবেন এবং এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় আরও মনোযোগী হতে পারবে। উক্ত দ্রব্যসামগ্রী পেয়ে আমি ১৬ইস্ট বেংগল এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।
এরকম দুর্গম এলাকায় এরকম মানবিক সেবা প্রদান শুধুমাত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা সম্ভব। সেনাবাহিনীর অবদানের কারনে আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ,পাড়াবাসী পরিবার-পরিজন নির্ভয়ে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারছি।”
দেশের জনগনের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে সেনাবাহিনী সর্বদা সচেষ্ট। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে মানসম্মত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়াটাই অনেক কষ্টসাধ্য সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী প্রদান দেশসেবার এক অনন্য উদাহরন।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের জন্য একটি বড় সমর্থন এবং উৎসাহের উৎস হিসেবে কাজ করেছে, যাতে তারা সুস্বাস্থ্য ও নির্ভয়ে জীবনযাপন পালন করতে পারে।
তারা আরও বলেন, সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষাই নয়, বরং মানবিক সহায়তার মাধ্যমেও জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।