1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রীমঙ্গলে সোলার লাইট স্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধন শেরপুরের ৭ গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত নেত্রকোনায় পাচারের সময় ভিজিএফের চাল জব্দ সীমান্ত যুব উন্নয়ন সংঘ (SZUS) পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন নাগেশ্বরীতে ভুয়া সাংবাদিক গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন কুরআনের শাসন ব্যতীত জনগনের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়- এড. আব্দুল আওয়াল জামালপুরে সূর্য তোরণ সমাজ সেবা সংস্থা’র পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কাঠালিয়ায় প্রেসক্লাবের আয়োজনে অসহায়দের মাঝে শিল্পপতি আরিফ হোসেনের ঈদ উপহার বিতরণ পটুয়াখালী ২২ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ করছেন ঈদুল ফিতর আসন্ন ঈদ উপলক্ষে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ করল ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশন

সাকিব হত্যার জের ধরে বসত বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে

শামীম আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি, নেত্রকোনা ৩
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

সাকিব হত্যার জের ধরে কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের মনকান্দা (বিলপাড়া) গ্রামের সাকিব হত্যা মামলার এজহার ভুক্ত আসামী আজিজুল সহ, জাহের উদ্দিন, মুসলেম ও সবুজ মিয়ার বসত বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মনকান্দা পূর্ব পাড়া গ্রামের উসেন মিয়ার ছেলে সবুজ ও নূরু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি সংগবদ্ধ দল লাঠিসোটা ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে এ হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাটি ঘটায় বলে অভিযোগ ওঠেছে।

জানা যায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় গত ২ নভেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মনকান্দা গ্রামের শান্তু মিয়ার ছেলে সাকিব। ২৩ অক্টোবর রাতে মনকান্দা গ্রামে বসেছিল একটি ধর্মসভা। ওই সভায় মনকান্দা গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে আজিজুল সহ পাশ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জর উপজেলার ইটাউলিয়া ও মধুপুর গ্রামের ৭-৮ জন বখাটে যুকব সভায় আগত নারীদেরকে বিভিন্ন ভাবে উত্তক্ত করে আসছিল। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাকিব মিয়া।

মনকান্দা গ্রামের মুছলেমের স্ত্রী রেহানা বেগম সহ প্রতক্ষ দূশিরা জানান হাসপাতালে সাকিবের মৃত্যুর খবর পেয়েই মনকান্দা পূর্বপাড়া গ্রাগের লোকজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে দল বেঁধে ২ নভেম্বর আমাদের বাড়িতে হামলা করে। ওই দিন গোয়াল ঘর থেকে আমাদের তিনটি গরু ও বসতঘর থেকে অন্যান্য আসবাপত্র লুট করে। ৪ নভেম্বর আবার ওই পূর্বপাড়ার লোকজন এসে সবুজ মিয়ার ঘরে হামলা ভাংচুর করে এবং দুটি গরু সহ ঘরের আসবাপত্র লুট করে নিয়ে যায়। মুসলেমের স্ত্রী রেহানা বেগম ও প্রত্যক্ষ দর্শিরা জানান শনিবার সকালে আজিজুল ও জাহের উদ্দিনের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হবে এ খবর শুনে ৯৯৯ ফোন দেওয়া হয়।

এরই প্রেক্ষিতে সকালে পুলিশ আসে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর সকালে সাড়ে ১০টার দিকে জুয়েল, সুহেল, হৃদয়, খেলন, ইমন, কাঞ্চন, লিটন, সাত্তার, সাইফুল, সুমন, নাইম সহ ৩০-৩৫ জনের একটি সংগবদ্ধ দল ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আজিজুলের বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় আমি সহ প্রতিবেশি বাড়ির নারীরা বাঁধা দিলে তাদেরকেও অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়।

প্রতক্ষ দর্শিরা জানান আজিজুলের ঘর ভাংচুরের পর ঘর থেকে তিনটি সুকেস, খাট, ডাইনিং টেবিল, ডেসিং টেবিল, ওয়াল টিভি, ফ্রীজ, ধান-চাল সহ ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তারা জাহের উদ্দিনের বসত ঘরটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে সেই ঘর থেকেও মূলবান নিয়ে লুট করে নিয়ে যায়।

তারা মামলার বাদী শান্তু মিয়ার প্রতিবেশি ও আত্মীয়স্বজন বলে জানা যায়।এ ব্যাপারে মামলার বাদী শান্তু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি পুত্র হত্যার শোকে কাতর। সাকিব আমার একমাত্র ছেলে। তাঁকে হত্যা করার পর আমার ভিটে বাড়িতে বাতি দেওয়ার আর কেউ রইল না। আমার লোকজন আসামী পক্ষের লোকদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

আমি নিরিহ মানুষ আমি আমার ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে মামলা করেছি। মামলার তদন্ত শেষে আদাল যে রায় দেবেন আমি তা মাথা পেতে নেব। মনকান্দা গ্রামের অনেকেই চারটি বসত বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার জন্য ৫ নং গন্ডা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী উসমানের হাত আছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

এ ব্যাপারে ইউপি মেম্বার আজিজুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আজ শনিবার সহ তিন দিন হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিরোধ করার জন্য গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে একটি কমিটিও করেছিলাম। কিন্তু মনকান্দা পূর্বপাড়া গ্রামের লোকজন আমাদের নিষেধ অমান্য করে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি পুলিশকে ঘটনাটি ফোনে জানিয়েছি।

এ হামলা ভাংচুরের ঘটনায় নিন্দা সহ দূষিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কেন্দুয়া থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রোখন উদ্দিনকে গিয়ে ঘটনা স্থলে পাওয়া যায়। এসময় তার কাছে ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন খবর পেয়ে আমরা সকালে এসেছিলাম। আমার চলে যাওয়ার পর পরই এসব বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে ওই গ্রামের পূর্ব পাড়ার লোকজন।

লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫নং গন্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আকন্দ কল্যাণ বলেন একটি হত্যা ঘটনার পর মামলা হয়েছে। কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। এখন আসামী আজিজুল ও তার প্রতিবেশিদের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও গরুবাচুর, আসবাপত্র লুটপাটের ঘটনা খুবই ন্যাক্কার জনক। আমি ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com